কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা করল মোদী সরকার। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ক্যাবিনেট বৈঠকে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ) আরও ২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় কর্মীদের ডিএ-র হার ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াল মূল বেতনের ৬০ শতাংশ। এই সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে, যার ফলে এপ্রিলের বেতনের সঙ্গেই তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার (Arrear) হাতে পাবেন কর্মীরা।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে সরাসরি উপকৃত হতে চলেছেন প্রায় ৫০.৫ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং ৬৮.৩ লক্ষ পেনশনভোগী। খুচরো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবারের বৃদ্ধির হার ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ৩ শতাংশ বেড়ে ডিএ হয়েছিল ৫৩ শতাংশ এবং গত অক্টোবর মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫৮ শতাংশে। নতুন এই ঘোষণার ফলে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ্য ভাতার ব্যবধান আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল, যা ভোটের মুখে মোদী সরকারের এক শক্তিশালী রাজনৈতিক চাল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তবে ডিএ বাড়লেও কেন্দ্রীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের পারদ চড়ছে। মূলত অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর না হওয়া নিয়েই এই অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
ইতিমধ্যেই শ্রমিক সংগঠনগুলি সরকারের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে ন্যূনতম মূল বেতন বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা করা, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮৩ গুণ করা এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে। গত ৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম এত কম হারে ডিএ বাড়ায় এবং অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে সরকারের নীরবতায় কর্মীরা হতাশ। একদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে নতুন বেতন কাঠামোর অনিশ্চয়তা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট কর্মীরা ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধিতে খুব একটা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই অসন্তোষ মেটাতে সরকার আগামী দিনে বেতন কমিশন নিয়ে কোনো সদর্থক ইঙ্গিত দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।









