উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারের লক্ষ্যে ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’ ও সারের সুষম ব্যবহারের সচেতনতা শিবিরের মাসব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হল জয়নগর ও কুলপিতে। ভারত সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং জয়নগর-২ ব্লকের সহ-কৃষি অধিকর্তার যৌথ ব্যবস্থাপনায় নিমপীঠে এক সচেতনতামূলক কৃষক সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই দিনে কুলপির নিশ্চিন্তপুরেও অনুষ্ঠিত হয় পৃথক কর্মসূচি। দুই অনুষ্ঠানেই কৃষি দপ্তরের আধিকারিক, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী এবং বহু কৃষক অংশ নেন।
নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান ও বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. চন্দন কুমার মণ্ডল জানান, মাসব্যাপী এই অভিযানে বিভিন্ন গ্রামে মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে সারের সুষম ব্যবহার, জৈব ও জীবাণুসারের প্রয়োগ, প্রাকৃতিক কৃষি এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হবে।
মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ কুশল দাশগুপ্ত তাঁর বক্তব্যে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং সারের সুষম ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট ও মাটি স্বাস্থ্য কার্ডের সুপারিশ মেনে সার প্রয়োগ করলে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে, সারের অপচয় কমে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি তিনি জৈব ও জীবাণুসারের ব্যবহার বৃদ্ধির উপরও জোর দেন।
জয়নগর-২ ব্লকের সহকারী কৃষি অধিকর্তা দেবাশিস সাহু বলেন, “মাটি কৃষির অন্যতম প্রধান সম্পদ। মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা রক্ষা না হলে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তাই কৃষকদের নিয়মিত মাটি পরীক্ষা করে তার ভিত্তিতে সারের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করতে হবে।”
অন্যদিকে কুলপির নিশ্চিন্তপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের শস্যবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. সোমনাথ সরদার, মন্দিরবাজার ও কুলপি ব্লকের কৃষি আধিকারিকরা কৃষকদের ফসলভিত্তিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, সঠিক সময়ে ও সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক ফলন ও লাভজনক কৃষির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।
কুলপির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত বিধায়ক বর্ণালী ধাড়া। তিনি কৃষকদের মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।









