Home / খবর / রাজ্য / ভোটের মুখে গ্রেফতার আইপ্যাক কর্তা, অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

ভোটের মুখে গ্রেফতার আইপ্যাক কর্তা, অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

বাংলার হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক দশ দিন আগে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসকদলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)। সোমবার রাতে দিল্লি থেকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গ্রেফতার করল সংস্থার অন্যতম পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে। কয়লাপাচার কাণ্ডের তদন্তে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। ভোটের মুখে এই গ্রেফতারি ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, “এটি গণতন্ত্র নয়, ভীতিপ্রদর্শন।”

ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, আসানসোল ও তৎসংলগ্ন খনি এলাকা থেকে হওয়া কয়লা পাচারের কোটি কোটি টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে আইপ্যাকের নিবন্ধিত সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড’-এ পৌঁছেছে। প্রায় ২০ কোটি টাকার এই লেনদেনের নেপথ্যে দিল্লির আবগারি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এক হাওয়ালা অপারেটরের নামও উঠে এসেছে। গত ২ এপ্রিল দিল্লি, বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানোর পর সোমবার রাতে বিনেশকে পিএমএলএ (PMLA) আইনে গ্রেফতার করা হয়।

এই ঘটনার খবর চাউর হতেই সমাজমাধ্যমে তোপ দাগেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মাত্র ১০ দিন আগে এই পদক্ষেপ সুস্থ প্রতিযোগিতার ধারণাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করলেই আপনাকে নিশানা করা হবে— এই শীতল বার্তা দেওয়া হচ্ছে।” নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে বিজেপির ‘চাপ রাজনীতির হাতিয়ার’ হিসেবেও দাগিয়ে দেন তিনি। সরাসরি অমিত শাহ ও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেক লিখেছেন, “৪ ও ৫ মে বাংলায় থাকুন। জ্ঞানেশ কুমার (নির্বাচন কমিশনার) এবং আপনাদের সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে আসুন। বাংলা মাথা নত করবে না।”

উল্লেখ্য, কয়লাপাচার মামলার জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। গত ৮ জানুয়ারি কলকাতার আইপ্যাক দফতর এবং সংস্থার অন্য পরিচালক প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে পৌঁছে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ ছিল, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নথিপত্র ও ল্যাপটপ সরিয়ে নিয়েছিলেন। সেই মামলার শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও শীর্ষ আদালত তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে।

আইপ্যাক সূত্রে খবর, গ্রেফতারি সত্ত্বেও কলকাতার দফতরে কাজ স্বাভাবিক রয়েছে। তৃণমূলের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর ডিএমকে-র হয়েও কাজ করছে তারা। দুই রাজ্যের ভোটের রণকৌশল স্থির করতে মঙ্গলবার সকালেই ভিডিও কনফারেন্স হওয়ার কথা। আগামী ২৩ এপ্রিল বাংলার প্রথম দফার ভোটের দিনই তামিলনাড়ুর সব আসনে ভোটগ্রহণ। ঠিক তার আগেই এই গ্রেফতারি আইপ্যাকের কার্যকলাপে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *