পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। তবে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিজেপি সূত্রে খবর, বাকি মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ হতে পারে আগামী সোমবার, ১১ মে। সেই দিনই নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গিয়েছে, সোমবার লোক ভবনে রাজ্যপাল আর এন রবি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তারপরই নবান্নে বসতে পারে বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক। কে কোন দফতরের দায়িত্ব পাবেন, সেই ছবিও সোমবারই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিধানসভা সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাজভবনে গিয়ে প্রোটেম স্পিকারকে শপথ করাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসেবে তাপস রায়ের নামই সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে আসছে। এরপর বুধবার এবং বৃহস্পতিবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর নামফলক বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক স্তরেও শুরু হয়েছে তৎপরতা। নবান্নে নতুন সরকারের কাজকর্ম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনে ভোটগণনা হয়েছিল। তার মধ্যে বিজেপি এককভাবে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এছাড়া কংগ্রেস দু’টি, সিপিএম একটি, আইএসএফ একটি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) দু’টি আসনে জয়ী হয়েছে। ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের কারণে সেখানে এখনও ভোটগ্রহণ বাকি রয়েছে।
ভোটের শতাংশের নিরিখেও এগিয়ে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছে ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট। তৃণমূলের ভোটের হার ৪০.৮০ শতাংশ। সিপিএম পেয়েছে ৪.৪৫ শতাংশ এবং কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে ২.৯৭ শতাংশ ভোট। নোটায় ভোট পড়েছে ০.৭৯ শতাংশ। অন্যান্য দল ও নির্দল প্রার্থীরা মিলিয়ে পেয়েছেন ৪.২৬ শতাংশ ভোট।










