দুর্গাপুর : রাজ্যে মন্দির, স্কুল, কলেজ-সহ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনও মদের দোকান থাকবে না। মঙ্গলবার কল্যাণীতে প্রশাসনিক সভা শেষে এমনই কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই ঘোষণার পরই নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দুর্গাপুরের সগর ভাঙা জোনাল সেন্টারের একটি মদের দোকান, তাই নিয়ে বাড়ছে জনরোষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সগর ভাঙা জোনাল সেন্টারে চালু থাকা ওই মদের দোকানটি শ্যাম মন্দিরের প্রায় ৪০০ মিটারের মধ্যেই অবস্থিত। শুধু তাই নয়, প্রায় ৫০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে এমস কলেজ ও স্কুল, প্রায় ৬০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে সন্ত নিরংকারী হাই স্কুল। এছাড়া ৬০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে বেসরকারি এ বি এস কলেজ।
শুধু সগর ভাঙা নয়, দুর্গাপুরের একাধিক জায়গায় একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে। ডিপিএল নিউ বয়েজ স্কুলের প্রায় ৭০০ মিটারের মধ্যে রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে একটি মদের দোকান, সিনেমা রোডে রয়েছে আরও একটি মদের দোকান। আবার দুর্গাপুর বাজারে স্থিত মদের দোকানটির থেকে টি এন স্কুলের দূরত্ব মাত্র ৪০০ মিটার বলেই দাবি স্থানীয়দের।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মদের দোকান ঘিরে মাঝেমধ্যেই অশান্তি, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যা তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা। তাঁদের বক্তব্য, স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থানের এত কাছে মদের দোকান কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়,
“মন্দির আর স্কুলের এত কাছে মদের দোকান থাকা উচিত নয়। মুখ্যমন্ত্রী যখন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, তখন প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
ফলে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নির্দেশিকার পর এলাকাজুড়ে উঠেছে একটাই প্রশ্ন, এই সব মদের দোকান কি এবার সরানো হবে?
এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া ঘোষণার পর দুর্গাপুর প্রশাসন কি এবার নড়েচড়ে বসবে? সগর ভাঙার বিতর্কিত মদের দোকান কি সরবে, নাকি নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবেই চলবে ব্যবসা, সেই উত্তর খুঁজছে গোটা এলাকা।










