দুর্গাপুর: সরকারি জমিতে নির্মিত একটি ক্লাবঘর ভাঙাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার করঙ্গপাড়া সংলগ্ন পিসিবিএল রোড এলাকা। আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (আড্ডা)-র উচ্ছেদ অভিযানের সময় শুধু প্রশাসনের সঙ্গেই নয়, বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যেও তুমুল বাদানুবাদ ও বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারি জমি দখল করে তৈরি হওয়া যুবশক্তি স্পোর্টিং ক্লাব দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় ছিল। আড্ডার দাবি, সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণ হওয়ায় নিয়ম মেনেই ক্লাবটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী দিনেও সরকারি জমিতে থাকা সমস্ত বেআইনি দখলের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযান চলবে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও চরমে ওঠে। বিজেপি নেতা সৌম্য কেশ ও সমীর বাউরি অভিযোগ করেন, ৪ মে-র আগে ওই ক্লাব থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কার্যকলাপ চলত। তাঁদের দাবি, তৃণমূল প্রার্থী সেখানে যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণও করা হতো। সরকার পরিবর্তনের পর রাতারাতি ক্লাবের রং বদলে যায় এবং ক্লাবের সদস্যরা নিজেদের বিজেপি বলে দাবি করতে শুরু করেন।
অন্যদিকে বিজেপি কর্মী রাজু নায়ক পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, যদি সরকারি জমিতে থাকা ক্লাবই ভাঙা হয়, তাহলে আশেপাশে থাকা অন্যান্য ক্লাব ও দোকানও একইভাবে ভাঙতে হবে। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই শুধুমাত্র তাঁদের ক্লাবকে নিশানা করা হয়েছে। প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর দাবি, “আমরাই দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী। চার তারিখের পর যারা বিজেপিতে এসেছে, তারাই এদিন অশান্তি সৃষ্টি করেছে।”
উত্তেজনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত বুলডোজার চালিয়ে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় যুবশক্তি স্পোর্টিং ক্লাব। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন, সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযান এবং একই দলের দুই গোষ্ঠীর প্রকাশ্য সংঘর্ষ, সব মিলিয়ে দুর্গাপুরের এই ঘটনা এখন জোর আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, সরকারি জমিতে বেআইনি দখল কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং ভবিষ্যতেও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।










