রূপনারায়ণপুর: রাজ্যজুড়ে স্মার্ট মিটার বসানোর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যেই এবার রূপনারায়ণপুরে সরব হল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)। সোমবার সিপিআই(এম)-এর সালানপুর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির (WBSEDCL) রূপনারায়ণপুর কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে (CCC) বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর স্টেশন সুপারিনটেনডেন্টের হাতে ৯ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
সিপিআই(এম) নেতৃত্বের অভিযোগ, ২০০৩ সালের বিদ্যুৎ আইনের বিধানকে কার্যত উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের উপর জোরপূর্বক স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর ফলে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে বলে দাবি তাঁদের। দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, বিদ্যুৎ কোনও বিলাসবহুল পণ্য নয়, এটি মানুষের মৌলিক ও অপরিহার্য পরিষেবা। তাই জনস্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া চলবে না।
স্মারকলিপিতে ৯ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ২০০৩ সালের বিদ্যুৎ আইনের ৪৭(২) ধারা অনুযায়ী প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বসানো সম্পূর্ণভাবে গ্রাহকের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল করতে হবে। গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনও অবস্থাতেই স্মার্ট মিটার বসানো যাবে না, পোস্টপেইড স্মার্ট মিটারও বাধ্যতামূলক করা চলবে না, শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ বা ই-মেইলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পাঠানোর ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে।
স্মার্ট মিটারের নামে অতিরিক্ত মিটার ভাড়া বা সার্ভিস চার্জ নেওয়া যাবে না এবং গ্রাহক চাইলে বর্তমান সচল মিটারই বহাল রাখতে হবে।
এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিষেবায় বেসরকারিকরণ বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা বাতিল, বিদ্যুতের মূল্য হ্রাস, প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রদান এবং সালানপুর ব্লকে বিদ্যুৎ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি করে দ্রুত নৈশকালীন পরিষেবা চালুর দাবিও জানানো হয়েছে।
এদিন দেবাশিস দে, মনোজ দত্ত, প্রদীপ দত্ত, সুব্রত চ্যাটার্জী ও তপসী চৌধুরীর যৌথ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সিপিআই(এম) নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। স্মার্ট মিটার ইস্যুতে রূপনারায়ণপুরে এই কর্মসূচি নতুন করে রাজনৈতিক ও জনমতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।










