Home / খবর / দেশ / ভোটের লাইনেও চাই ‘বায়োমেট্রিক’, ভুয়ো ভোট রুখতে বড় পদক্ষেপের পথে সুপ্রিম কোর্ট

ভোটের লাইনেও চাই ‘বায়োমেট্রিক’, ভুয়ো ভোট রুখতে বড় পদক্ষেপের পথে সুপ্রিম কোর্ট

Supreme-Court aadhaar

ভোটার আসল কি না তা নিশ্চিত করতে এবার আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) কিংবা চোখের মণির (আইরিস) স্ক্যান কি বাধ্যতামূলক হতে চলেছে? লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে ‘প্রক্সি’ ভোট, ভুয়ো ভোট এবং দুর্নীতির কারবার রুখতে এমনই এক জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আসন্ন কিছু রাজ্যের নির্বাচনে এটি কার্যকর করা সম্ভব না হলেও, ভবিষ্যতের সংসদীয় বা বিধানসভা নির্বাচনে এই পদ্ধতি কতটা উপযোগী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিন আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ের করা এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপাতদৃষ্টিতে আসন্ন নির্বাচনগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর করা কঠিন। তবে আগামী লোকসভা বা বিধানসভা ভোটগুলোতে এই পথ অনুসরণ করা যায় কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার।” প্রধান বিচারপতি আরও মনে করিয়ে দেন যে, এই ধরণের ব্যবস্থা চালু করতে গেলে নির্বাচনী বিধি বা নিয়মে আমূল বদল আনতে হবে এবং এতে সরকারি কোষাগারের ওপর বড়সড় আর্থিক চাপও পড়বে। তবে স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের যে প্রভূত ক্ষমতা রয়েছে, সে কথাও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।

আবেদনকারীর দাবি, নির্বাচন কমিশন একাধিক ব্যবস্থা নিলেও এখনও ভুয়ো ভোট বা ‘গোস্ট ভোটিং’-এর মতো সমস্যা রয়েই গিয়েছে। ২০২৬-এর ২০ মার্চ নাগাদ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এই ধরণের অসঙ্গতিগুলো সামনে আসার পরেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। পিটিশনে বলা হয়েছে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু হলে একজনের ভোট অন্য কেউ দিতে পারবে না এবং ‘এক নাগরিক, এক ভোট’— এই নীতিকে আক্ষরিক অর্থেই কার্যকর করা যাবে। বর্তমানে আধার কার্ড যেমন পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃত, ঠিক সেই ধাঁচেই বুথে বায়োমেট্রিক যাচাই করা সম্ভব। আইনজীবী উপাধ্যায় জানান, গত ২৮ মার্চ তিনি এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে কোনও সদর্থক সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া এখন সময়ের দাবি। শীর্ষ আদালত এই মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে সব পক্ষকে নোটিস পাঠিয়েছে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *