জলপাইগুড়ি: অনিয়মিত বেতনে ক্ষোভ। বুধবার পুরসভার গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখালেন সাফাই বিভাগের কর্মীরা। জলপাইগুড়ি পুরসভা ঘেরাও করে দীর্ঘ সময় চলল আন্দোলন। পুর চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান সাফাই কর্মীদের। বাদ গেলেন না পুর আধিকারিকরাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাল্কা লাঠিচার্জ করলেন আধাসেনার জওয়ানেরা।
বেতন ন্যূনতম। সেই সামান্য বেতনও সময়মতো মেলে না বলে অভিযোগ। দীর্ঘ তিন মাস ধরে বেতন পাননি পুরসভার সাফাই বিভাগের কর্মীরা। পুর কর্তৃপক্ষের তরফে একাধিক আশ্বাস দেওয়া হলেও সাফাই জর্মীদের একটি দাবিও পূরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বেতন বা মেলায় সংসারে হাড়ির হাল। আর্থিক পরিস্থিতি সঙ্গীন হয়ে দাঁড়িয়েছে সাফাই কর্মীদের। এদিন দ্রুত বেতন-সহ অন্য দাবি গুলির দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুরসভার মূল ফটকের সামনে বড় আন্দোলন করেন সাফাই কর্মীরা। এদিন সকাল থেকেই কাজ বন্ধ রাখেন বিক্ষোভকারীরা। পরে, পুরসভা ঘেরাও করেন তারা। পুর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একের পর এক স্লোগান দেওয়া হয়। সাফাই কর্মীদের আন্দোলনের জেরে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরসভা চত্বর। ঘটনাস্থলে মোতাশেন করা হয় পুলিশ ও আধাসেনা কে। পুরসভার গেটে বিক্ষোভ চলাকালীন চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় গাড়ি নিয়ে ঢুকতে গেলে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। একই স্লোগান শুনতে হল অফিস সুপার-সহ অন্য আধিকারিকদেরও। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাল্কা লাঠিচার্জ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। বিক্ষোভকারীদের তরফে মনীষ রাউত বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি গুলি মেটাচ্ছে না। তার ওপর তিন মাস ধরে বেতন নেই। নিরুপায় হয়েই আন্দোলনে নেমেছি। বাকি সবার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব। সে রকম হলে, বেতন না হাতে আসা পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।’ আরেক আন্দোলনকারী জানান, তিন মাস ধরে বেতন, পেনশন সব বন্ধ। কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ৫ দফা দাবির একটিও পূরণ হয়নি। চোর-চোর স্লোগান প্রসঙ্গে সাফাই কর্মীদের একতা মঞ্চের এক প্রতিনিধি প্রদীপ রাউত জানান, পেটের জ্বালায় হয়তো কেউ এই স্লোগান দিয়েছেন। আমাদের প্রতিনিধিরা যখনই বেতন প্রসঙ্গে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান তখনই তাদের ফান্ডের অপ্রতুলতার কথা শোনানো হয়। তাহলে ফান্ডিং যাচ্ছে কোথায়, প্রশ্ন আন্দোলনকারীদের। এ বিষয়ে পুর কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।










