মাইথন: ভরা বর্ষার মধ্যেই মাথার ওপরের একমাত্র আশ্রয় হারাল শতাধিক পরিবার। এক মাসের সময়সীমা শেষ হতেই শনিবার মাইথনের লেফ্ট ব্যাংক এলাকায় বেআইনি দখলদার উচ্ছেদে ফের বুলডোজার নামাল দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি)। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে দুটি বুলডোজার দিয়ে একের পর এক আবাসন ভাঙার কাজ শুরু হতেই গোটা এলাকায় নেমে আসে থমথমে পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের বসবাসের জায়গা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন বহু পরিবার।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন প্রথম দফায় এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছিল। সেদিন পাঁচটি আবাসন ভেঙে ফেলা হয়। পরে বাসিন্দাদের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায় ডিভিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার জন্য এক মাস সময় চেয়ে নেন। সেই সময়সীমা শেষ হতেই শনিবার ফের শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয় রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং ডিভিসির নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীদের। নিরাপত্তার বলয় তৈরি করে বুলডোজার দিয়ে আবাসন ভাঙার কাজ চালানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের সময় কয়েকটি বড় গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডিভিসির এক ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জানান, লেফ্ট ব্যাংক এলাকায় ডিভিসির মোট ১১০টি আবাসন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার সেই প্রক্রিয়ারই পরবর্তী ধাপ শুরু হয়েছে।
একসময়ের জনবহুল লেফ্ট ব্যাংক এলাকা এখন প্রায় জনশূন্য। উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ২২ বছর ধরে তাঁরা এখানে বসবাস করছেন। তাঁদের অভিযোগ, মাত্র এক মাসের নোটিশে বর্ষাকালে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়া কার্যত অসম্ভব।
এক বাসিন্দার কথায়, আমরা ২২ বছর ধরে এখানে আছি। একসময় সাড়ে চারশোরও বেশি পরিবার এই এলাকায় থাকত। এখন বর্ষার মধ্যে পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো, বুঝতে পারছি না। পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
ডিভিসির এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুনর্বাসনের প্রশ্নও সামনে এসেছে। মাথার ওপরের ছাদ হারিয়ে বহু পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভরা বর্ষায় গৃহহীন হয়ে পড়া এই মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।









