পান্ডবেশ্বর: নিজের দলের কর্মীদের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন পান্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি। একটি দলীয় কর্মসূচিতে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, কোয়ার্টার দখল, ঠিকাদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের ওপর জুলুমবাজির একাধিক অভিযোগ তাঁর কাছে পৌঁছেছে।
বিধায়কের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর মন্তব্যে, দুষ্টু গরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভালো।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অন্যায়কারী কর্মীদের সমর্থন করার চেয়ে দল ফাঁকা থাকাই ভালো। এমন কর্মীদের তাঁর দরকার নেই।
জিতেন্দ্র তেওয়ারি অভিযোগ করেন, অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ তোলা হতো, এখন বিজেপির কিছু কর্মীও সেই একই পথে হাঁটতে চাইছে। তাঁর কথায়, আগে যদি মাসে চারটি কোয়ার্টার দখল হতো, এখন সপ্তাহে চারটি কোয়ার্টার দখলের অভিযোগ আসছে। ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাহলে পরিবর্তন কোথায়?
তিনি আরও বলেন, বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে কেউ যদি অনৈতিক কাজ করে, তাহলে দল তার পাশে থাকবে না। বরং দলীয় পতাকা নামিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সেই কাজ করতে হবে। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা দাদাগিরি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
একটি ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই হতেই পারে, কিন্তু তার পরিবারের ওপর হামলা বা ভয় দেখানো কোনও সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যার যে রাজনৈতিক মতাদর্শ, তাকে সেই রাজনীতি করার অধিকার দিতে হবে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত আসে যখন তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে বিজেপি আর তৃণমূলের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
বিরোধীদের দাবি, বিজেপির ভেতরের বাস্তব চিত্র এবার তাদেরই একজন বিধায়কের মুখে সামনে এসেছে। যদিও বিজেপির একাংশের মতে, জিতেন্দ্র তেওয়ারির এই বক্তব্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য নয়, বরং দলকে শুদ্ধ করার প্রচেষ্টা। তাঁদের দাবি, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের দলের লোকদেরও ছাড় দেননি, এটিই তাঁর রাজনৈতিক সততার পরিচয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধুমাত্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দলীয় সংগঠনকে সতর্ক করার একটি স্পষ্ট বার্তা। আগামী দিনে এই মন্তব্য বিজেপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার অপেক্ষা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, জিতেন্দ্র তেওয়ারির এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে পশ্চিম বর্ধমানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।










