আসানসোল জেলা আদালতে সোমবার নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলে আদালতের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে সামিল হলেন বিপুল সংখ্যক আইনজীবী। তৃতীয় দিনের এই আন্দোলনের জেরে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম কার্যত ব্যাহত হয় এবং কর্মবিরতির ডাক দেন আইনজীবীরা।
বিক্ষোভরত আইনজীবীদের অভিযোগ, এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রে পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। তাঁদের দাবি, আইনজীবীদের অভিযোগে পুলিশ দীর্ঘসূত্রিতা দেখালেও, আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই কোনও প্রাথমিক যাচাই ছাড়াই দ্রুত এফআইআর নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এই “অতি সক্রিয়তা” ও “অতি নিষ্ক্রিয়তা”-র প্রতিবাদেই তাঁদের আন্দোলন।
বিক্ষোভ চলাকালীন আদালত চত্বরে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে। পুলিশকে আদালত চত্বরে প্রবেশ করতেও বাধা দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারকে আদালতে এসে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিতে হবে। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
জেলা আদালতের প্রবীণ আইনজীবী শেখর কুন্ডুর বক্তব্য, কোনও আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে আগে বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি এফআইআর দায়ের করা আইনসঙ্গত নয় বলেই তাঁর মত।
বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অয়ন রঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও সম্পাদক বানি মণ্ডল জানান, গত ১৭ জুলাই আদালত চত্বরে এক আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারী আইনজীবী নরেন সাউ থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও প্রথমে তা এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। অথচ অপর পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক আইনজীবীর বিরুদ্ধে দ্রুত এফআইআর দায়ের করা হয়। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন ওই দিন ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন না।
অন্যদিকে, নামোপাড়ার বাসিন্দা তারা সাউয়ের অভিযোগ, আদালত চত্বরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা, শ্লীলতাহানির চেষ্টা, ছিনতাই এবং চার লক্ষ টাকা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করে। পরে আইনজীবীদের চাপের মুখে নরেন সাউয়ের অভিযোগও এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
বার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, তাঁদের আন্দোলন কোনও ব্যক্তি বা পক্ষকে কেন্দ্র করে নয়, বরং পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবিতে। দুই পক্ষের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার আগে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার বিকেলে বার অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধি দল জেলা বিচারকের সঙ্গে বৈঠক করলেও কোনও ইতিবাচক সমাধান মেলেনি। ফলে মঙ্গলবারও আন্দোলন ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বার অ্যাসোসিয়েশন। আদালত চত্বরের এই অচলাবস্থা এখন কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।










