দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে রাজনৈতিক ও শ্রমিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য, দুই শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করল কোকওভেন থানার পুলিশ। এখানকার বেসরকারি শিল্প সংস্থা গ্রাফাইট ইন্ডিয়া লি. কারখানার সঙ্গে যুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের দুই প্রভাবশালী নেতা শেখ রমজান এবং কার্তিক রজক ওরফে পিউ-কে গ্রেফতার করল পুলিশ।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তোলাবাজি, শ্রমিকদের মধ্যে ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি, প্রভাব খাটিয়ে একাধিক বেআইনি কর্মকাণ্ড।
পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগ উঠেছে, শিল্পাঞ্চলের বহু শ্রমিক ও চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানা চত্বরে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে শ্রমিকদের উপর চাপ সৃষ্টি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির অভিযোগও সামনে এসেছে। সেইসব অভিযোগের ভিত্তিতেই কোকওভেন থানায় একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে অভিযানে নেমে পুলিশ ওই দুজনকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার সকালে ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আদালত চত্বরে উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ ধৃতদের দেখে তীব্র বিক্ষোভ দেখান। আদালত প্রাঙ্গণ কেঁপে ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগানে। মুহূর্তে চড়ে ওঠে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ায় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা অবনতির যাতে না হয়, তার জন্য মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
পুলিশের দাবি, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই গ্রেফতারিকে ঘিরে দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, এটি কেবল শুরু, সামনে আরও বড় নাম সামনে আসবে।
যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
শিল্পাঞ্চলে প্রশ্ন উঠছে, চাকরির নামে তোলাবাজির অভিযোগ কি শুধুই বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় কোনও সিন্ডিকেট? তদন্ত যত এগোবে, ততই সামনে আসতে পারে আরও বিস্ফোরক তথ্য।









