Home / খবর / জেলায় জেলায় / আসানসোল পুরনিগমের সেন্ট্রাল স্টোরে কোটি টাকার সরঞ্জাম, ক্ষোভে ফুঁসছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

আসানসোল পুরনিগমের সেন্ট্রাল স্টোরে কোটি টাকার সরঞ্জাম, ক্ষোভে ফুঁসছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

আসানসোল পুরনিগমের সেন্ট্রাল স্টোরে বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকার সরকারি সরঞ্জাম পচে নষ্ট হয়েছে। সরকারি টাকায় কেনা আধুনিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গাড়ি, ডাস্টবিন, সাইকেল ভ্যান, গামবুট, সবই অবহেলায় পড়ে থেকে কার্যত ‘স্ক্র্যাপে’ পরিণত হয়েছে। শুক্রবার সকালে কালিপাহাড়িতে পুরনিগমের সেন্ট্রাল স্টোরে আচমকা হানা দিয়ে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আর তারপরেই প্রশাসনিক মহলে শুরু হয় তীব্র চাঞ্চল্য।
সকালে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন কালিপাহাড়ির ওই সেন্ট্রাল স্টোরে পৌঁছে মন্ত্রী যা দেখলেন, তা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর দাবি, ‘মিশন নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের অধীনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে কেনা বহু আধুনিক সরঞ্জাম বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
মন্ত্রী ঘুরে দেখেন রাস্তা পরিষ্কারের স্প্রিংক্লার গাড়ি, আধুনিক বর্জ্য সংগ্রহকারী যান, সাইকেল ভ্যান, হাজার হাজার ডাস্টবিন সহ একাধিক সামগ্রী ঝোপঝাড়ের মধ্যে অযত্নে পড়ে রয়েছে। চাঞ্চল্যকরভাবে, বহু নতুন গাড়ির এখনও পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত হয়নি, লাগানো হয়নি নম্বর প্লেটও।
স্টোরে উপস্থিত আধিকারিকরা বিএস-৩ ইঞ্জিন সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণ দেখানোর চেষ্টা করলে, তাতেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেন মন্ত্রী।
তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, যদি এত সরঞ্জাম পড়েই থাকে, তাহলে বারবার নতুন টেন্ডার ডেকে কেনও কোটি কোটি টাকা খরচ করে নতুন জিনিস কেনা হল? কেনও সেগুলি ব্যবহার করা হয়নি?
শুধু সরঞ্জাম নয়, এদিন সাফাইকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগও তোলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, স্টোরে প্রায় দুই হাজার জোড়া গামবুট, গ্লাভস ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী মজুত থাকলেও, বাস্তবে বহু সাফাইকর্মীকে নর্দমা ও আবর্জনা পরিষ্কারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নামতে হচ্ছে প্রায় খালি হাতে।
এই নিয়ে কড়া কটাক্ষ ছুড়ে মন্ত্রী বলেন, “এই গামবুট, রেনকোট, সেফটি গিয়ার কি সাফাইকর্মীদের জন্য কেনা হয়েছিল, নাকি বর্ষাকালে তৎকালীন কাউন্সিলাররা নিজেরা ব্যবহার করবেন বলে গোডাউনে জমিয়ে রাখা হয়েছিল?”
সরকারি অর্থের অপচয় এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুরনিগমের এই ‘স্টোর রহস্য’ খতিয়ে দেখতে তদন্ত হবে। একইসঙ্গে কালিপাহাড়ি সেন্ট্রাল স্টোরে মজুত সমস্ত সামগ্রীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা, সেগুলি কীভাবে দ্রুত জনস্বার্থে ব্যবহার করা যাবে এবং সাফাইকর্মীদের মধ্যে বণ্টন সম্ভব, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।
পুরমন্ত্রীর এই আচমকা পরিদর্শনের পর থেকেই আসানসোল পুরনিগমের প্রশাসনিক অন্দরে জোর গুঞ্জন, তাহলে কি এবার খুলতে চলেছে ‘কোটি টাকার সরঞ্জাম কেলেঙ্কারি’র ফাইল?

alternatetext

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *