উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: ভাঙড়ের বিস্ফোরণকাণ্ডে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা গ্রেপ্তার হওয়ার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই ভাঙড়-সহ একাধিক এলাকায় আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা যায়। ডিজে বাজিয়ে নাচ-গানও করেন অনেক কর্মী। এর মধ্যেই শওকত মোল্লার গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেল আইএসএফ নেতা আরাবুল ইসলাম-কে।
শুক্রবার রাতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) শওকত মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের বিস্ফোরণকাণ্ডে তিনি অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন। শনিবার সকালে এনআইএ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায়।
শওকত মোল্লার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আনন্দ প্রকাশ করেন আইএসএফ কর্মীরা। একসময় তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত আরাবুল ইসলাম নিজেও রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিলি করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে হাতে মিষ্টি তুলে দিতে দেখা যায় তাঁকে।
রাজনীতির অন্দরে আরাবুল ইসলাম ও শওকত মোল্লার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব সুপরিচিত। একসময় ভাঙড়ে তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ ছিলেন আরাবুল। পরে দলের ভিতরে শওকত মোল্লার উত্থানের পর দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে আরাবুলকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি আইএসএফে যোগ দিয়ে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
শওকত মোল্লার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আরাবুল ইসলাম বলেন, এনআইএ তাঁকে গ্রেপ্তার করে সঠিক কাজ করেছে। তিনি দাবি করেন, শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে বহু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। আরাবুলের বক্তব্য, শুধুমাত্র গ্রেপ্তার নয়, মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগে শওকত মোল্লার আরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।










