অমল মাজি, বড়জোড়া ( বাঁকুড়া): বেলিয়াতোড়–বড়জোড়া প্রস্তাবিত রেললাইন এখনও অনিশ্চিত। সমীক্ষার পরও প্রকল্পে নেই অগ্রগতি, তাই হতাশ বড়জোড়াবাসী।
বড়জোড়া ভূমি সংস্কার দপ্তরের কাছেও এখনও পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেললাইন কোন কোন জমির উপর দিয়ে যাবে, সেই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই।
ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তারা এখনও জানেন না কোন দিক দিয়ে, কোন জমির উপর দিয়ে প্রস্তাবিত রেললাইন হবে। তাই প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যে রেললাইন ঘিরে স্বপ্ন দেখছে বাঁকুড়ার মানুষ, সেই বেলিয়াতোড়–বড়জোড়া হয়ে দুর্গাপুর সংযোগকারী প্রস্তাবিত রেললাইন আজও কাগজেই বন্দি। একাধিক দাবি, স্মারকলিপি, রাজনৈতিক আশ্বাস এবং সম্প্রতি চূড়ান্ত লোকেশন সমীক্ষা সম্পন্ন হলেও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি কার্যত শূন্য। ফলে এলাকাজুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
এই রেললাইন বাস্তবায়িত হলে বাঁকুড়া, বেলিয়াতোড়, বড়জোড়া ও দুর্গাপুরের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ গড়ে উঠবে। দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হওয়ায় প্রতিদিনের হাজার হাজার যাত্রী যেমন উপকৃত হবেন, তেমনই শিল্পপণ্য পরিবহণেও আসবে নতুন গতি। ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।
সম্প্রতি প্রকল্পের চূড়ান্ত লোকেশন সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে খবর সামনে এলেও এখনও পর্যন্ত প্রকল্প অনুমোদন, বাজেট বরাদ্দ বা নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়ে রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সমীক্ষার পরও কেনও শুরু হচ্ছে না কাজ?
জানা গেছে, বেলিয়াতোড় থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার নতুন রেলপথের প্রস্তাব বহু পুরনো। বিষয়টি অতীতে সংসদেও উত্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু ব্যয় ও আর্থিক বাস্তবতার কারণ দেখিয়ে প্রকল্পটি বছরের পর বছর ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে। এমনকি বড়জোড়া ভূমি সংস্কার দপ্তরের কাছেও এখনও পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেললাইন কোন কোন জমির উপর দিয়ে যাবে, সেই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই।
এদিকে দুর্গাপুর–বাঁকুড়া সড়কে প্রতিদিন বাড়ছে যানজট ও যাতায়াতের চাপ। অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী, শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা নিত্যদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন রেললাইন চালু হলে সড়কপথের উপর চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে কাঁচামাল ও তৈরি পণ্য পরিবহণও হবে আরও দ্রুত ও কম খরচে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আর সমীক্ষা নয়, এবার বাস্তব কাজ শুরু হোক। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে শুধু সমীক্ষা ও আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের একটাই দাবি, কেন্দ্র সরকার দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন করে বাজেট বরাদ্দ করুক এবং বেলিয়াতোড়–বড়জোড়া–দুর্গাপুর রেললাইন নির্মাণের কাজ অবিলম্বে শুরু হোক। কারণ এই রেললাইন শুধু একটি যোগাযোগ প্রকল্প নয়, বরং বাঁকুড়া ও দুর্গাপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।









