পাণ্ডবেশ্বর: এক সময় যিনি নিজেকে “ঘরের ছেলে” বলে মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছে ভোট চেয়েছিলেন, আজ সেই প্রাক্তন বিধায়ককে ঘিরেই বিস্ফোরক অভিযোগে উত্তাল পাণ্ডবেশ্বর।
তাঁর বাসভবন সংলগ্ন একাধিক গোডাউন থেকে গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। পাশাপাশি, ইসিএল-এর একটি গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে উঠেছে একের পর এক প্রশ্ন। যদিও সমস্ত অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
শুক্রবার সকাল থেকেই পাণ্ডবেশ্বরের বাকোলেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষুব্ধ মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাসভবনের আশেপাশে থাকা কয়েকটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী দেখতে পান তাঁরা। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ সামগ্রী সেখানে মজুত করে রাখা হয়েছিল।
এলাকার মানুষের প্রশ্ন, যদি এত ত্রাণ মজুত ছিল, তাহলে তা গরিব মানুষের হাতে পৌঁছল না কেন? শুধু তাই নয়, এই বিপুল সামগ্রী কি কোনও অসাধু চক্রের মাধ্যমে বাইরে পাচারের ছক ছিল? উঠছে এমন প্রশ্নও। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও সরকারি তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি।
বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে বাকোলেশ্বরী মন্দিরের পিছনে থাকা ইসিএল-এর একটি গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই গেস্ট হাউসটি কার্যত প্রভাব খাটিয়ে ব্যবহার করা হত। শুক্রবার কিছু বিক্ষুব্ধ বাসিন্দা ভিতরে ঢুকে বিলাসবহুল সাজসজ্জা দেখতে পান বলে দাবি করেন। সেখান থেকে কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধারের দাবিও উঠেছে, যা নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে ওই দাবির স্বাধীনভাবে সরকারি বা প্রশাসনিক যাচাই এখনও হয়নি।
স্থানীয় বিজেপি কর্মী আসিফ ইকবাল অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন সন্ত্রাস চালানো হয়েছে। গরিব মানুষের প্রাপ্য ত্রাণ আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অনেক কিছু সামনে আসবে।
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, অন্যায়ভাবে আমার চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি যেখানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছি, সেই জায়গাকে ঘিরে ষড়যন্ত্র চলছে। ভগবান বিচার করবে, পাণ্ডবেশ্বরের মানুষ বিচার করবে।
২০২১ সালে “ঘরের ছেলে নরেন” পরিচয়ে ভোটে জিতে বিধায়ক হওয়া এই নেতাকে ঘিরে আচমকা এমন বিতর্কে হতবাক একাংশের মানুষ। অন্যদিকে বিরোধীরা সরব। গোটা ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্য সামনে আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
এখন বড় প্রশ্ন, এটা কি শুধুই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নাকি সামনে আসছে আরও বড় কোনও কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত?










