অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: সচরাচর তাদের আর দেখা মিলত না। তাদের অস্তিত্ব নিয়েই সন্দিহান ছিলেন পরিবেশ ও পক্ষীপ্রেমীদের বড় অংশ। অবশেষে সমীক্ষায় দেখা মিললো সেই সব দুর্লভ পাখির। সম্প্রতি জলপাইগুড়ি সায়েন্স ও নেচার ক্লাবের তরফে পড়ুয়াদের নিয়ে এক পক্ষী পর্যবেক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে কমবেশি ৩৫-৩৬ প্রজাতির পাখির সন্ধান পান অনুসন্ধানকারীরা। তাদের দাবি, এর মধ্যে ৫-৬ টি প্রজাতির পাখি বর্তমানে রীতিমতো দুর্লভ। এই প্রজাতির পাখি ফের দেখা পাওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন পক্ষীপ্রেমীরা।
বিগত ১২ এপ্রিল থেকে ওই সংস্থার ভোটপট্টি শাখার উদ্যোগে এক পক্ষী পর্যবেক্ষণ ও প্রকৃতি সচেতনতার আয়োজন করা হয়। জঙ্গল লাগোয়া পানবাড়ি-রামশাই এলাকার বারো হাতিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এই শিবির বসে। সংলগ্ন জঙ্গল ও গ্রামীণ এলাকা চষে বেড়ান শিবিরে অংশগ্রহণকারী পড়ুয়া ও আয়োজক সংস্থার পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। দিনকয়েক ধরে চলে এই কর্মসূচি। আয়োজকেদের দাবি, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার অনেক ছাত্র-ছাত্রী স্বতস্ফূর্তভাবে এই শিবিরে যোগদান করে। পড়ুয়াদের মাঝে প্রকৃতিপ্রেম, সংরক্ষণের গুরুত্ব, দলগতভাবে কাজ, পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় উৎসাহ বৃদ্ধি-সহ একাধিক বিষয়কে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দূরবীণ, অত্যাধুনিক ক্যামেরা ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে এই পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি চালান হয়েছে। বন দফতরের সহায়তায় হাতির পিঠে চড়ে জঙ্গলে চলে সমীক্ষা। সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকায় পায়ে হেটেই কাজ সারেন সবাই। প্রাপ্ত তথ্য ‘রেকর্ডে’ রাখা হয়েছে বলেও জানান আয়োজকেরা।
সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক তথা বঙ্গরত্নপ্রাপ্ত পরিবেশপ্রেমী রাজা রাউত বলেন, “পাখি সনাক্তকরণের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের বিষয়টিও ছাত্রছাত্রীদের ভালো করে বোঝাতে পেরেছি। আধুনিক অ্যাপ ব্যবহার করে বাস্তব চিত্রটা ওদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।”

রাজা রাউত, সম্পাদক, জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাব
শিবিরে আসা জনৈকা ছাত্রী জানান, এই শিবিরে না এলে অনেক কিছুই জানতে পারতাম না। হারিয়ে যেতে বসা বনের প্রাণীসম্পদকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে হবে। ওরা বাঁচলে আমাদের সমাজ-সভ্যতাও টিকে থাকবে। শিবিরে হাজির ছিলেন রামসাই রেঞ্জের রেঞ্জার বাবলু দাস ও বেলাকোবা রেঞ্জের রেঞ্জার সমীরণ রাজ। সংস্থার তরফে সম্পাদক ছাড়াও ছিলেন ড. গৌতম ঘোষ, আশিস বসাক-সহ অন্যরা। সম্পাদক রাজা রাউত বলেন, “আমাদের ১২ তম ‘বার্ড ওয়াচিং’ ক্যাম্প ফলপ্রসূ হয়েছে। পাটকিলে ধনেশ, মৌখাকি বাজ, মাছ মোরাল, রাজ ধনেশের মতো বিরল দৃশ্যমান কিছু পাখিকে দেখা গিয়েছে। তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে।” এ বছরে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সংখ্যায় তুলনামূলক ভাবে বৃদ্ধি ঘটেছে বলে অভিমত আয়োজক সংস্থার।










