উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনারপুর : তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচ অভিযুক্তকে রবিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করল পুলিশ।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ২৬ দিন পর, শনিবার দলীয় কর্মসূচিতে সোনারপুরে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার পর শনিবার রাতেই অভিযুক্ত সন্দেহে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে সোনারপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ভিডিও খতিয়ে দেখে রাতভর তল্লাশি চালানো হয়। এরপর কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর, বেআইনি জমায়েত, পথ অবরোধ এবং অশালীন আচরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস, নির্মাল্য সেনগুপ্ত এবং তপন মাইতি। সকলেই রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ।
প্রসঙ্গত, ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শনিবার সোনারপুরে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পৌঁছনোর আগেই এলাকায় একদল ক্ষুব্ধ মানুষের জমায়েত হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে একটি মোটরবাইকে করে এলাকায় পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম, ইট, পাথর ও জুতো ছোড়া হয়। নিরাপত্তারক্ষী ও তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দেওয়া হেলমেট পরিয়ে তাঁকে এলাকা থেকে বের করে আনার সময়ও কয়েকজন বিক্ষোভকারী তাঁর উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। এমনকি হেলমেট খুলে মাথায় আঘাত করারও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি তৃণমূলের।
ঘটনার পর তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ করে, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দাবি করেন, তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ইট তাঁর চোখের কাছে লাগে। পরে সেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজও সামনে আসে। তাঁর কথায়, “ওরা আমাকে মারতেই চেয়েছিল।”
পুলিশ ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চায়। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।










