আসানসোল দক্ষিণ থানার লোয়ার ছিন্নমস্তা এলাকার তুরি পাড়ায় শিশু খুনের ঘটনার তদন্তে মঙ্গলবার ” পুনর্নির্মাণ বা রিকনস্ট্রাকশন ” করল পুলিশ। এদিন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের এসিপি ( সেন্ট্রাল ১) আবদুল গফফরের নেতৃত্বে পুলিশ আধিকারিকদের দল ধৃত প্রতিবেশী শিবনাথ তুড়িকে নিয়ে যে জঙ্গল থেকে ঋত্বিক রুজ নামে বছর ৬ র শিশুর দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল সেখানে যায়। ধৃত সবকিছু পুলিশ আধিকারিকদের বলে, ঠিক কি ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ আধিকারিকরা বেশ কিছু প্রশ্ন করেন। গোটাটাই ভিডিওগ্রাফি করা হয়। পুলিশের সঙ্গে এদিন ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা ও কর্মীরা।
এই প্রসঙ্গে এসিপি ( সেন্ট্রাল ১) বলেন, এখন এই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত বলার কিছু নেই। গোটা ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। এদিন ধৃতকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ বা রিকনস্ট্রাকশন করা হল।
অন্যদিকে, বিজেপির মন্ডল সভাপতি অঙ্কুর রায় বলেন, এদিন পুলিশ ধৃতকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। গোটা বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা চাই দ্রুত পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুলাই রবিবার বাড়ির অদূরে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল শিশুর দেহ । আসানসোল জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পরে রিপোর্টের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে যে, শিশুটিকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে গত ২৯ জুলাই পুলিশ তুড়ি পাড়ার বাসিন্দা ওই শিশুর প্রতিবেশী শিবনাথ তুড়িকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে আছে। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, ধৃত জেরায় স্বীকার করেছে যে, সে ঋত্বিককে গলা টিপে শ্বাস রোধ করে খুন করেছে।
কিন্তু গত ৩১ জুলাই শুক্রবার বিকেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এই খবর পাওয়ার পরে শিশুর পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা আসানসোলের জিটি রোডের ভগত সিং মোড়ে রাস্তা অবরোধ করেন। তারা দাবি করেন, শিশুকে খুনের অভিযোগে পুলিশ যাকে গ্রেফতার করেছে, তাকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। তারা তাদের সন্তানের খুনের জন্য সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দেবেন। এই দাবিতে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ভগত সিং মোড়ে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে রাখেন ও অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অবরোধের জেরে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।










