Home / খবর / জেলায় জেলায় / একদিনেই ‘ইউ-টার্ন’, বাতিল বদলির পূর্বতন নির্দেশ

একদিনেই ‘ইউ-টার্ন’, বাতিল বদলির পূর্বতন নির্দেশ

জলপাইগুড়ি: ফের শিরোনামে জলপাইগুড়ির শিক্ষাক্ষেত্র। এবারে বদলি বিতর্ক। অস্থায়ীভাবে বদলিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুনরায় মূল স্কুলে যোগদানের নির্দেশিকা বুধবার জারি করে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সংসদ সচিবের নির্দেশিকায় জানান হয়, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্থায়ী বদলিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মূল স্কুলে ফিরে যেতে হবে। এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট সার্কেলের এসআই-দের। এই নির্দেশিকা রাতে সমাজমাধ্যমে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় শিক্ষা মহলে। বৃহস্পতিবার স্কুল শেষে ডিপিএসসি-র সচিবের সঙ্গে দেখা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা। বিক্ষোভও দেখান হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের তরফে তথ্য সহকারে বক্তব্য পেশ করা হয় বলে দাবি। পরে বদলির নির্দেশিকা বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।

জেলায় ১২ শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কোথাও শিক্ষার স্বার্থে, কোথাওবা শিক্ষকদের নিজস্ব কিছু সমস্যার কারণে তাদের বিভিন্ন সময়ে মূল স্কুল থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সে সব স্কুলের পঠনপাঠন-সহ যাবতীয় কাজ সামলেছেন শিক্ষকেরা। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশে নিবাচন ও সেনসাসের ডিউটিও করেছেন। গত বুধবার হঠাৎই এক নির্দেশিকা জারি করা হয় সংসদের পক্ষ থেকে। জেলার বিভিন্ন সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয় আগামী ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্থায়ী বদলিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মূল স্কুলে ফেরানোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। মূল স্কুলে যোগদান করে ‘রি-জয়েনিং লেটার’ সাবমিট করতে বলা হয় ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এরপরই বিক্ষোভ ছড়ায় প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে। জনৈক শিক্ষিকা বলেন, কোভিডের সময় শিক্ষার স্বার্থে আমাকে মূল স্কুল থেকে অন্য স্কুলে আনা হয়। এখন আবার ফিরে যেতে বলা হচ্ছে।’ মূল স্কুলে যোগদান করার পরে বেতন মিলবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ থাকায় আরও অসন্তোষ ছড়ায়। আন্দোলনকারীদের তরফে সুপ্রতিম সাহা, চন্দন কুমার ঘোষ, নুর ইসলাম-সহ দাবি, শিক্ষার স্বার্থে একসময় মূল স্কুল থেকে তাদের বর্তমান স্কুলে আনা হয়। অনেকে নানা সমস্যাজনিত কারণে অস্থায়ীভাবে বদলি হয়েছেন কাউন্সিলের মাধ্যমে। শিক্ষক শিক্ষিকাদের সমস্যার কথা না শুনেই এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি স্কুলে অস্থায়ী বদলিতে থাকা শিক্ষক শিক্ষিকা ও বিশেষ কিছু ক্যাটেগরিতে থাকা অসুস্থ শিক্ষকদের ছাড় দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেনে অনেকে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এবারে তাদের বক্তব্য সহানুভূতির সঙ্গে শুনে এই নির্দেশিকা বাতিল করা হয়েছে।

বদলি-বতর্কের আপাত অবসান। 

ডিপিএসসি-র সচিব তথা ডিআই শ্যামলচন্দ্র রায় বলেন, “শিক্ষার স্বার্থের পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষিকাদের সুবিধে-অসুবিধার দিকটা দেখাও আমাদের কর্তব্য। আলোচনা সাপেক্ষে পূর্বতন বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করা হল।”

(ফিচার ইমেজ: সংগৃহীত)

 

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *