দুর্গাপুর:এক মহিলাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, মানসিক নির্যাতন এবং ভিডিও ভাইরাল করার হুমকির গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক সিভিক ভলেন্টিয়ার। অভিযুক্তের নাম চিরঞ্জিত সাহা, তিনি দুর্গাপুরের বিদ্যাসাগর পল্লী এলাকার বাসিন্দা এবং কোকওভেন থানায় কর্মরত সিভিক ভলেন্টিয়ার বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিল্পাঞ্চল জুড়ে।
অভিযোগ, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার ওই মহিলার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। শুধু তাই নয়, বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও আতঙ্কে নির্যাতিতা ভেঙে পড়েন বলেও জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল দুর্গাপুর মহিলা থানায় নির্যাতিতা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ভিত্তিতে কোকওভেন থানা এলাকার বিদ্যাসাগর পল্লী থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার অভিযুক্তকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় বিএনএস-এর একাধিক গুরুতর ধারা, যার মধ্যে ধর্ষণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, স্টকিং, গোপনে নজরদারি, শারীরিক নির্যাতন ও প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে, সেগুলিতে তদন্ত চলছে।
এদিকে নির্যাতিতার পক্ষের আইনজীবী রতন কুমার সিং অভিযোগ করেন,
“অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার ওই মহিলাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করেছে। এরপর ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেছে। কাউকে জানালে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। আতঙ্কে ওই মহিলা আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন। অভিযোগ দায়েরের দু’মাস পর গ্রেফতার হওয়া পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। আমরা কঠোর শাস্তির দাবি করছি।”
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন, অভিযোগ দায়েরের এতদিন পর কেন গ্রেফতার? তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।










