Home / প্রবন্ধ / রোববারের লেখা / চন্দননগরে ফরাসি সংস্কৃতির হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো

চন্দননগরে ফরাসি সংস্কৃতির হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো

মুকুট তপাদার

ইতিহাসের এক অন্যতম ঘটনা ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যাণ্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে সপ্তবর্ষের যুদ্ধ শুরু হয়। ১৩৩৭ সাল থেকে ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলেছিল। সেই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছিল এই বাংলাতেও। ভারতীয় উপমহাদেশে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে। বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ফরাসি কোম্পানি নিজেদের সুরক্ষার্থে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারভাবে শুরু করেছিল। সেকালে তৎকালীন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা। তিনি দুই কোম্পানিকে কিছু প্রশাসনিক নির্দেশ দেন। তারমধ্যেই এলো সেই সময়, ‘বাঙ্গালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!…’ নবাবের পতন।

পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। যুদ্ধের আগে ফরাসিদের কাছে গোলাবারুদ সহ সৈন্য সাহায্য চেয়েছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ফরাসিরা সেই কথাতে রাজি হননি। ফলে ব্রিটিশের সঙ্গে ফরাসিদের সরাসরি দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

একদম শুরু থেকেই বাংলায় নবাবের নির্দেশ
ফরাসিরা মানলেও ইংরেজরা তা অমান্য করে। ফলস্বরূপ এর জেরে চন্দননগরের ফরাসি কুঠি ক্লাইভ দখল করে নেয়। শুরু হয় ক্লাইভের সৈন্যদের সঙ্গে ফরাসিদের যুদ্ধ।

ফরাসি গভর্নর জোসেফ ফ্রাঁসোয়া ডুপ্লের বাসভবন অর্থাৎ আজকের চন্দননগর মিউজিয়ামে একাধিক এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চিহ্ন আছে। ছোট বড় বিভিন্ন মাপের কামানের গোলা অত্যন্ত যত্ন সহকারে মিউজিয়ামের সংগ্রহে রাখা আছে।

রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সৈন্যরা চন্দননগর দখলের উদ্দেশ্যে গঙ্গা নদী দিয়ে নৌপথে এই বিধ্বংসী আক্রমণ চালায়। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা ফেরার পথে এই ক্ষমতা দেখিয়েছিল।

আরো এক অদ্ভুত তথ্য যে, নদীয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের মিত্র ও ফরাসি কোম্পানির হিসাবরক্ষক ইন্দ্রনারায়ন চৌধুরীর বাসভবন লুঠ করা হয় ক্লাইভের নির্দেশে। ইন্দ্রনারায়ণের নন্দদুলাল মন্দিরে একটি কামানের গোলা এসে পড়েছিল। কৃষ্ণচন্দ্র নিজে ছিলেন নবাববিরোধী। এদিকে তাঁর মিত্রের সকল সম্পত্তি লুঠ হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত ১৭৬৩ সালে পুনরায় প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে ফরাসিদের কাছে চন্দননগরের শাসনভার হস্তান্তরিত হয়। এমনই নানা রকমের কথা পুরনো সকল অতীতের নিদর্শনে আজো ধরে রেখেছে গঙ্গা পাড়ে ফরাসডাঙ্গা।

(শেষ)

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *