দুর্গাপুর: সোমবার ভোরের শান্ত পরিবেশ আচমকাই ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-র অভিযানের খবর। দুর্গাপুরের নিউ স্টিল পার্ক এলাকায় গোলাম জামা ওরফে গুড্ডুর ভাড়া বাড়িতে হানা দেয় এনআইএ-র একটি বিশেষ দল। একজন মহিলা আধিকারিক-সহ মোট ছয় সদস্যের তদন্তকারী দল দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানোর পর গোলাম জামাকে গ্রেফতার করে।
এনআইএ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতের বিরুদ্ধে মানবপাচার (হিউম্যান ট্রাফিকিং) সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং স্থানীয় পুলিশও মোতায়েন ছিল।
গ্রেফতারের পর সাংবাদিকরা গোলাম জামাকে প্রশ্ন করলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি। মুখে কুলুপ এঁটে পুলিশের গাড়িতে উঠে পড়েন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গোলাম জামা মূলত বিহারের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুরের নিউ স্টিল পার্ক এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকতেন। প্রতিবেশী সামিম আলম জানান, গোলাম জামার স্ত্রী একসময় বলেছিলেন তিনি প্রায় ছয় মাস মালয়েশিয়ায় ছিলেন এবং সেখানে একটি টায়ারের দোকানে কাজ করতেন। তবে এলাকাবাসীর সঙ্গে তার খুব একটা মেলামেশা ছিল না।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ছত্তিশগড়ে একটি নাশকতামূলক ঘটনার তদন্তেও গোলাম জামার নাম উঠে এসেছিল। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষ পাঠানোর নামে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা সালাউদ্দিন আনসারির দাবি, গোলাম জামার বিরুদ্ধে ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চলছিল। তার কথায়, ছয় মাস আগে সে মোবাইলের সিম বদলেছিল। এরপর কিছুদিন এলাকাতেও দেখা যায়নি।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ভুয়ো নথি তৈরি করে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর আড়ালে বড়সড় একটি চক্র সক্রিয় ছিল কি না, সেই দিকেই তদন্ত এগোচ্ছে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও এনআইএ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি এবং তদন্ত চলমান।
এনআইএ সূত্রে খবর, ধৃত গোলাম জামাকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে, যাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
হঠাৎ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই অভিযানে নিউ স্টিল পার্ক এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কে এই গোলাম জামা, কীভাবে তিনি দুর্গাপুরে এসে বসবাস শুরু করেছিলেন এবং তার সঙ্গে আর কারা জড়িত, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তে জোর দিয়েছে এনআইএ।









