উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: বৈশাখের শুরুতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে শুরু হল মধু সংগ্রহের কাজ। তবে এবার কড়া নিয়ম মেনে শুধুমাত্র অভিজ্ঞ মৌলেদেরই অনুমতি দিয়েছে বনদফতর। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই মিলছে সরকারি পাশ।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী এবং বৈধ বিমা থাকা মৌলেদেরই এ বছর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পূর্ববর্তী বছরের বৈধ পারমিটের নথিও দেখাতে হয়েছে। অর্থাৎ, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মৌলেরাই এবার জঙ্গলে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন।
মধু সংগ্রহ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। বাঘ, কুমিরের আক্রমণ থেকে শুরু করে প্রতিকূল আবহাওয়া—সব মিলিয়ে বিপদের শেষ নেই। সেই কারণে এ বছর মৌলেদের সুরক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বনদফতর। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, মধু সংরক্ষণের পাত্র, সুরক্ষার মুখোশ এবং যোগাযোগের জন্য আধুনিক ডিভাইস ও মোবাইল ফোন।
জঙ্গলে নিরাপত্তা জোরদার করতে রাখা হয়েছে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স ও সশস্ত্র বনকর্মী। বনদফতরের পেট্রোলিং টিমের পাশাপাশি ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার সদস্যরাও সহযোগিতা করবেন মৌলেদের।
গত বছর কুলতলি বিট অফিস থেকে ৫৫টি দলকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ বছর সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দু’শরও বেশি। প্রতিটি দল ১৫ দিন করে জঙ্গলে থেকে মধু সংগ্রহ করবে এবং সংগৃহীত মধু বনদফতরের কাছেই জমা দিতে হবে।
বনদফতর জানিয়েছে, এ বছর মধুর দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। এ গ্রেডের মধু ২৭৫ টাকা এবং বি গ্রেডের মধু ২৩৫ টাকা দরে কেনা হবে। গত বছর ১০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছিল, এ বছর সেই লক্ষ্য বাড়িয়ে ২০ মেট্রিক টন করা হয়েছে।










