দুর্গাপুর: আসানসোল ও বার্নপুরের পর এবার শিল্পনগরী দুর্গাপুরেও চলল বুলডোজার অভিযান। দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে শনিবার দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীর ১ নম্বর ব্লকে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (ডিএসপি) কর্তৃপক্ষ। ডিএসপির জমি দখলমুক্ত করার বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি সংস্থার।
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর স্টিল হাসপাতালের সামনে অবস্থিত বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ওই কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে ডিএসপির জমির উপর অবৈধভাবে নির্মিত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নোটিশ জারি করা হলেও কার্যালয় খালি করা হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। সূত্রের খবর, ৪ মে-র পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
শনিবার দুপুরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে প্রশাসনিক আধিকারিক, পুলিশ বাহিনী এবং ডিএসপি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শুরু হয় অভিযান। এরপর বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলা হয় দলীয় কার্যালয়টি। ঘটনাস্থলে ব্যাপক কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়।
অভিযান চলাকালীন কার্যালয়ের ভিতর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথি উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যার মধ্যে বেশ কিছু বায়োডাটাও রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, ওই কার্যালয় থেকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে তোলাবাজি চলত এবং নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক অনিয়মের সূত্র মিলতে পারে উদ্ধার হওয়া নথিপত্রে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে, এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনা প্রসঙ্গে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, “বর্তমান রাজ্য সরকার কোনও বেআইনি দখলদারি বা অবৈধ নির্মাণকে প্রশ্রয় দেবে না। কেন্দ্রীয় সংস্থার জমি দখল করে গড়ে ওঠা এই ধরনের কার্যালয়ের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় ডিএসপি কর্তৃপক্ষ এই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।”
ডিএসপি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কোম্পানির জমি বেআইনিভাবে দখল করে ওই রাজনৈতিক কার্যালয় তৈরি করা হয়েছিল। আইন মেনেই তা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
শিল্পাঞ্চলে একের পর এক উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এ কি শুধুই জমি দখলমুক্তির অভিযান, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা?










