নয়জনের মৃত্যু ও ২০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের আগে ও পরে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে সাদা রঙের হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি। গাড়ির নম্বর HR 26CE7674। সূত্রের খবর, বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটে গাড়িটি পার্কিং লটে ঢোকে এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল।
প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, গাড়িটি বাদরপুর সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই গাড়ির রুট নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। অন্য একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারীর হাত গাড়ির জানালায় রাখা অবস্থায় পার্কিং লটে প্রবেশ করছে গাড়িটি।
আরও একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, চালকের গায়ে নীল-কালো টি-শার্ট। তৃতীয় ছবিতে গাড়িটি ব্যস্ত রাস্তার উপর দিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের দাবি, পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গাড়ির ভিতরে থাকা ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি একবারের জন্যও বাইরে বের হননি। অনুমান, তিনি হয় কারও অপেক্ষা করছিলেন অথবা নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন।
সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের গাড়িগুলি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে দেহের অংশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী। আহতদের একাধিক অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি সন্ত্রাসবাদী হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে। ফরেন্সিক রিপোর্ট ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ ইউএপিএ (Unlawful Activities Prevention Act) ধারা প্রয়োগ করেছে। দিল্লি ছাড়াও মুম্বই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, জয়পুর, হরিয়ানা, পঞ্জাব, হায়দরাবাদ, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে বিহারেও সতর্কতা জারি হয়েছে।
ঘটনার দিনই রাজধানী থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে হরিয়ানার ফরিদাবাদে উদ্ধার হয় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক। সূত্রের দাবি, দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র মিলেছে। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত আই২০ গাড়িটি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা এক চিকিৎসক ডা. উমর মহম্মদের নামে। তিনি একটি “হোয়াইট কলার টেরর মডিউল”-এর সদস্য ছিলেন।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ডঃ উমর আতঙ্কিত হয়ে লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণ ঘটান, কারণ এর আগেই তাঁর দুই সহযোগী—ডঃ মুজাম্মিল শাকিল ও ডঃ আদিল রাদার—গ্রেফতার হন এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। উমর আরও দুই সহযোগীর সঙ্গে মিলে গাড়িতে ডিটোনেটর বসিয়ে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেন।
ফরিদাবাদে উদ্ধার হওয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটই এই বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।










