জামুড়িয়া: পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়ায় বুধবার সকালে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আসানসোল পুরনিগমের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নন্ডী গ্রামে প্রাক্তন কাউন্সিলর পম্পা ভট্টাচার্যের বাড়ির অদূরে পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার হল একাধিক আধার কার্ড, পরিচয়পত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, এত সংখ্যক সরকারি নথি কীভাবে একসঙ্গে ওই জায়গায় এল, তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
বুধবার সকালে এলাকার বাসিন্দারা প্রথমে দেখতে পান, প্রাক্তন কাউন্সিলরের বাড়ির সামনের রাস্তায় ও পুকুরপাড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে আধার কার্ড সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জামুড়িয়া থানার পুলিশ। পুলিশ সমস্ত নথিপত্র উদ্ধার করে তদন্তের জন্য নিয়ে যায়।
ঘটনার পরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা নিরঞ্জন সিং তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “একজন প্রাক্তন কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে এভাবে আধার কার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হওয়া অত্যন্ত রহস্যজনক। এর পিছনে বড়সড় দুর্নীতি, ভুয়ো লেনদেন বা সরকারি প্রকল্পে কারচুপির যোগ থাকতে পারে।” তিনি দাবি করেন, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে।
বিজেপির অভিযোগ, সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্র কীভাবে ওই এলাকায় এল, তার উত্তর দিতে হবে প্রশাসনকে। ঘটনার সঙ্গে কোনও প্রভাবশালী চক্র জড়িত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় নিজেদের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন কাউন্সিলর পম্পা ভট্টাচার্যের স্বামী সনৎ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। পুলিশ তদন্ত করে সত্যিটা সামনে আনুক।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া আধার কার্ড ও নথিগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার কার নথি উদ্ধার হয়েছে, সেগুলি কীভাবে সেখানে এল এবং এর পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।










