Home / খবর / জেলায় জেলায় / বারুইপুরের আরণ্যক উদ্যান থেকে উধাও ১৩ ময়ূর-সহ একাধিক পাখি, পাচারের অভিযোগে আটক ৩

বারুইপুরের আরণ্যক উদ্যান থেকে উধাও ১৩ ময়ূর-সহ একাধিক পাখি, পাচারের অভিযোগে আটক ৩

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: বারুইপুরের জনপ্রিয় ‘আরণ্যক বনভোজন উদ্যান’ থেকে ১৩টি ময়ূর-সহ একাধিক পাখি ও কচ্ছপ উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পশুপাখি পাচারের অভিযোগে তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

বারুইপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আদি গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই উদ্যানটি পুরসভার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আগে উদ্যানে ১৩টি ময়ূর, একাধিক কচ্ছপ, টিয়া এবং বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতির পাখি ছিল। বর্তমানে সেখানে একটি ময়ূরও বা বিদেশি পাখি নেই। অভিযোগ, বাকি পাখি ও কচ্ছপও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বারুইপুর পশ্চিম ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী উদ্যানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অতীশ বিশ্বাস এবং বারুইপুর থানার আইসি শান্তনু মিত্রের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

ধৃতদের মধ্যে একজন দাবি করেছেন, একটি ময়ূর মারা যাওয়ার পর সেটিকে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। তবে জাতীয় পাখির মৃত্যুর পর বনদফতরকে কেন জানানো হয়নি এবং সরকারি নিয়ম কেন মানা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরণ্যক উদ্যানের কর্মী গোপাল সর্দার দাবি করেন, গত কয়েক মাসে মোট ১০টি ময়ূরের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কথায়, “খাবার দিয়ে চলে যেতাম। সকালে এসে দেখি ময়ূর মরে পড়ে রয়েছে। কোনও দিন চারটি, কোনও দিন দু’টি করে মারা গেছে।”

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা গৌতম চক্রবর্তীর অভিযোগ, “এখানে ১৩টি ময়ূর ছিল। রাতারাতি সব উধাও হয়ে গিয়েছে। পুরসভা বলছে বাজ পড়ে মারা গেছে। বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।”

অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, পশুপাখি পাচার এবং অনিয়মের অভিযোগগুলি অভিযোগকারীদের দাবি। তদন্ত এখনও চলছে এবং এ বিষয়ে বারুইপুর পুরসভার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *