বীরভূম: অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের দুই বিলাসবহুল বাড়িতে বৃহস্পতিবার তল্লাশি চালাল বীরভূম জেলা পুলিশ। সিউড়ি ও মহম্মদবাজারের সোঁৎশালে অবস্থিত ওই দুই বাড়িতে সম্পত্তির উৎস এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সিউড়ির সুভাষপল্লিতে টুলু মণ্ডলের চারতলা বাড়িতে লিফ্ট, আধুনিক জিম এবং দামি আসবাবে সজ্জিত একাধিক ঘর রয়েছে। বিশাল লন ও বাহারি গাছে ঘেরা এই বাড়িতেই দীর্ঘদিন বসবাস করতেন টুলু। তবে লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে তাঁকে আর এলাকায় দেখা যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
একইসঙ্গে মহম্মদবাজারের সোঁৎশালে টুলুর পৈতৃক বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। চারতলা সাদা রঙের ওই বাড়িটি পাঁচিলঘেরা এবং এখনও নির্মাণকাজ চলছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই বাড়ি থেকেই টুলুর ব্যবসা ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ পরিচালিত হত।
ডিএসপি (ডিইবি) সুরজিৎ মণ্ডল, ডিএসপি (সদর) সৌরভ ভট্টাচার্য, সিউড়ি থানার আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুলিশি দল সিউড়ি ও সোঁৎশালের পাশাপাশি মহম্মদবাজারের একটি পার্কিং এলাকাতেও তল্লাশি চালাচ্ছে।
এই তদন্তের সূত্রপাত বুধবার মহম্মদবাজারে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের ঘটনায়। পরে মিনারকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, মিনার সম্পর্কে টুলু মণ্ডলের শ্যালক। এরপরই টুলুর সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
তদন্তকারীরা মিনারের বাড়ি থেকে ছয়টি ট্রাঙ্ক ও দু’টি আলমারি উদ্ধার করেছেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই ট্রাঙ্ক ও আলমারিগুলির মধ্যেই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা রাখা ছিল।
উল্লেখ্য, বীরভূমে ‘পাথরসম্রাট’ নামে পরিচিত টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাসল্ট পাথরের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ তাঁকে ‘পাথর মাফিয়া’ বলেও উল্লেখ করেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে টুলু মণ্ডলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।










