চিত্তরঞ্জন: স্মার্ট মিটারের জটিলতায় কার্যত বিপাকে পড়েছেন রেল শহর চিত্তরঞ্জনের আমলাদহি বাজারের ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, সময়মতো রিচার্জ করতে না পারা এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার একযোগে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা (সিএলডব্লিউ)-র আমলাদহি বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবিও জানান তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্প্রতি বাজার এলাকায় প্রচলিত বিদ্যুৎ মিটারের পরিবর্তে স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় প্রিপেইড পদ্ধতিতে আগে থেকে টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু রিচার্জের অর্থ শেষ হয়ে গেলে কোনও পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ফলে হঠাৎ করেই দোকানপাট অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে এবং ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আমলাদহি বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, গত তিন থেকে চার দিন ধরে বহু দোকানে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ, কুলার, আলো, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্য, মিষ্টি ও ঠান্ডা পানীয় বিক্রেতারা বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, স্মার্ট মিটারের রিচার্জ করাতে গেলে আমলাদহি বিদ্যুৎ দপ্তরে গিয়েও সঠিক পরিষেবা মিলছে না। অনেক সময় দপ্তরে গিয়েও রিচার্জ সম্ভব হচ্ছে না, ফলে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, রিচার্জের বিকল্প ব্যবস্থা, অনলাইন পরিষেবা এবং আগাম সতর্কীকরণ বার্তার ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
বিক্ষোভকারী ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে অধিকাংশ ছোট ব্যবসায়ী প্রতিদিনের আয়ের উপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান খুলেও ব্যবসা করা যাচ্ছে না। এর ফলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, ক্রেতাদের কাছেও তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে। অনেক দোকানে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এদিন ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যুৎ বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে লিখিত ও মৌখিকভাবে সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা দাবি করেন, স্মার্ট মিটার ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করতে হবে, রিচার্জ প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে গ্রাহকদের পর্যাপ্ত সময় ও বার্তা দিয়ে সতর্ক করার ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। তবে এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
রেল শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র আমলাদহি বাজারে স্মার্ট মিটার নিয়ে এই অসন্তোষ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে প্রিপেইড বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও গ্রাহক পরিষেবার মান নিয়ে। এখন দেখার, ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।









