আসানসোল: বহুল চর্চিত কয়লা পাচার মামলায় শেষ পর্যন্ত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হাতে গ্রেফতার হলেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের (এডিপিসি) স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত পুলিশ অফিসার মনোরঞ্জন মণ্ডল। বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কয়লা পাচার চক্রের পাশাপাশি বালি সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। এর আগে ইডি মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের বাড়ি-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায়। সেই তল্লাশিতে বিপুল আর্থিক লেনদেন এবং সিন্ডিকেট-সংক্রান্ত নেটওয়ার্কের সূত্র মিলেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, মনোরঞ্জন মণ্ডল অতীতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। শেষবার তাঁকে বুদবুদ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময়ই তাঁর বাড়িতে ইডির হানা পড়ে। এরপর তাঁকে স্পেশাল ব্রাঞ্চে বদলি করা হয়।
ইডি সূত্রের খবর, কয়েক মাস ধরে বারবার তলব করা হলেও তিনি তদন্তে হাজির হননি। সেই কারণেও তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কয়লা ও বালি পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রভাবশালীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মনোরঞ্জন মণ্ডল। বারাবনি থানার ওসি থাকাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি অসিত সিংয়ের জন্মদিন উদ্যাপনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনায় রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছিল।
এখন এই গ্রেফতারির ঘটনায় শিল্পাঞ্চল জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা আধিকারিকের নাম সামনে আসতে পারে বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে।










