আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বারাবনি থানার শ্যামাপুর এলাকায় বালিঘাটকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে নদীর মাঝখানে ভারী যন্ত্র নামিয়ে ব্যাপক হারে বালি উত্তোলন চলছে। এর জেরে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এলাকার বহু পুরনো আদিবাসী ও দাস সমাজের শ্মশানঘাট।
অভিযোগ, শ্যামাপুর বালিঘাটে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে বালি ব্যবসায়ীর তরফে নদীর মাঝ বরাবর একাধিক ভারী পোকলেন মেশিন ব্যবহার করে লাগাতার খনন চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সাধারণত শ্রমিকদের মাধ্যমে ঝুড়ি বা টোকরিতে সীমিত পরিমাণে বালি তোলার কথা থাকলেও এখানে সেই নিয়ম কার্যত মানা হচ্ছে না। বরং পাঁচটি পোকলেন মেশিন নামিয়ে ট্রাক ও হাইভা গাড়িতে দ্রুতগতিতে বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, বালি ঘাট পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানচিত্র, খননের গভীরতা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ম লঙ্ঘন করে নদীর স্বাভাবিক গঠন বদলে দেওয়া হচ্ছে বলেই তাঁদের অভিযোগ। এর ফলে নদীভাঙন ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয়রা।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, যেখানে এই খনন চলছে তার খুব কাছেই রয়েছে বিন্দুডিহ ও শ্যামাপুর গ্রামের আদিবাসী ও দাস সমাজের বহু পুরনো শ্মশানঘাট। দীর্ঘদিন ধরে এই শ্মশানঘাটে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ শেষকৃত্যসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে আসছেন। কিন্তু লাগাতার যন্ত্রচালিত খননের জেরে শ্মশানঘাটের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শেষকৃত্য সম্পন্ন করতেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বহুবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ফলে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে এলাকায়। তাঁদের হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে খনন কার্য নিয়ন্ত্রণ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, এটি শুধু বালি তোলার বিষয় নয়, আমাদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও পূর্বপুরুষদের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত শ্মশানঘাট রক্ষার লড়াই। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছেও লিখিত অভিযোগ জানানো হবে।
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বালি ব্যবসায়ী বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সাপেক্ষে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা এলাকা।










