অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: মসনদে পালাবদল। ক্ষমতার বদল হতেই উত্তরের চা বলয়ে ফের সক্রিয় বাম শ্রমিক সংগঠন। এক সময়ে এই চা বলয়ই ছিল বামেদের অন্যতম মূল শক্তি। সেই সাংগঠনিক শক্তি ফেরাতে মরিয়া লাল-শিবির। এবারে দাবি ন্যূনতম মজুরি। শহর লাগোয়া এক চা বাগানে বড়নআকারের গেট মিটিং কর নিজেদের অস্তিত্ব ফের জাহির করা শুরু করল বামেরা।
শুক্রবার করলাভ্যালি চা বাগানে চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবিতে গেট মিটিং হয়। এই মজুরি দ্রুত কার্যকরী করার কথা জোরালো ভাবে জানান নেতারা। মূলত উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের যৌথ মঞ্চ জয়েন্ট ফোরামের উদ্যোগেই এই কমসূচি চলে। । সভা শুরুর আগে সিকিমের টানেল দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ন্যূনতম মজুরি ও জমির পাট্টা সহ বিভিন্ন দাবি এবং শ্রম কোডের বিরোধিতা করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা বাগানে দু’দিনব্যাপী গেট মিটিং এর ডাক দিয়েছে জয়েন্ট ফোরাম। তারই অঙ্গ হিসাবে এদিন করলাভ্যালি চা বাগানে গেট মিটিং হয়। বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা প্রফুল্ল লাকরা, গোবিন ওরাও, শুভাশিস সরকার, ধ্রুবজ্যোতি গাঙ্গুলী, সুনিতা বাগ প্রমুখ। সিটু
অনুমোদিত চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের করলাভ্যালি বাগান ইউনিটের সম্পাদক গোবিন ওরাও জানান, এখনও মহিলা চা শ্রমিকদের জন্য বাথরুম তৈরি করা হয়নি। বাগানের হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি তুলেছেন তিনি। শ্রমিকদের ছাতা, ত্রিপল, ঘরের টাকা, রেশন, জ্বালানি, পিএফ, গ্রাচ্যুইটি সহ দ্রুত বাগানের জঙ্গল পরিষ্কারের দাবি করা হয় এদিনের সভা থেকে। সমস্যা না মিটলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চা শ্রমিকরা। ২০১৫ থেকে ২০২৬ দীর্ঘ সময় ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলন হলেও কর্ণপাত করেনি কর্তৃপক্ষ। গেট সভার পরে শ্রমিকদের দাবিপত্র চা বাগানের ম্যানেজারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ হয়নি বলে অভিযোগ নেতাদের। শুভাশিস সরকার, প্রফুল্ল লাকড়া-সহ সিটু ও ফোরামের জেলাস্তরোর নেতারা থাকায় এই আন্দোলন বেশ সাড়া ফেলে। গেট সভার পরে শ্রমিকদের দাবিপত্র চা বাগানের ম্যানেজারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।










