Home / প্রবন্ধ / রোববারের লেখা / বিশ্ব যোগ দিবস: নিয়মিত যোগাভ্যাসেই লুকিয়ে ফেলুদার মগজাস্ত্রের রহস্য

বিশ্ব যোগ দিবস: নিয়মিত যোগাভ্যাসেই লুকিয়ে ফেলুদার মগজাস্ত্রের রহস্য

মুকুট তপাদার

শরীরচর্চার উপদেশ স্বামীজি স্বয়ং দিয়েছেন। বলতেন, ‘আগে চরিত্রবান হও। দেশের সেবা যদি করতে চাও তাহলে বিপ্লবী হও।’ নিবেদিতা স্বামীজির এই উপদেশ স্মরণ করিয়ে দিতেন – ‘লাঠি, মুগুর খেলবে, শরীরচর্চা করবে।’ আর বাংলা সাহিত্যের ফেলুদা! ওরফে প্রদোষচন্দ্র মিত্র। নামটা শুনেই মনটা তৃপ্ত হয়ে যায়, আনন্দে ভরে ওঠে। বাঙালিকে দেওয়া সত্যজিৎ রায়ের শ্রেষ্ঠ উপহার। যা এক অমর সৃষ্টি। ২১, রজনী সেন রোড, বালিগঞ্জ। ফেলুদা প্রেমীদের চেনা ঠিকানা। প্রতি বছর ২১শে জুন বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়। ফেলুদা সুস্বাস্থ্য ও মগজাস্ত্রের পুষ্টির জন্য প্রতিদিন সকালে আধঘণ্টা নিয়ম করে নানা রকমের যোগাসন করেন।

ফেলুদা তাঁর অ্যাসিস্ট্যান্ট খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র বা তোপসেকে নিয়ে প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশনের দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে চনমনে ও তরতাজা রাখতে হাঁটা ও যোগাসন করেন। এই জীবনধারা বাঙালিকে যোগাসনে উৎসাহ জোগায়।

বিভিন্ন গল্পের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তাঁর রোজকার রুটিনের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে যোগব্যায়াম ও নানারকম আসন। তবে তাঁর এই শারীরিক কসরতের তালিকায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘শীর্ষাসন’। কনুইয়ের ওপর ভর করে, মাথা নীচের দিকে এবং পা শূন্যে সোজা ওপরের দিকে রেখে তিনি এই কঠিন আসনটি নিয়মিত করেন। এর উপকারিতা, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। হজমে সাহায্য করে। শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে। ‘গোঁসাইপুর সরগরম’ কাহিনীতে দেখা যায়, ফেলুদা সকালে ও বিকেলে হাঁটতে বের হতেন।

‘সোনার কেল্লা’ সিনেমাতে শুরুতে ফেলুদার মক্কেল যখন প্রথম আসেন, তখন ফেলুদা গভীর মনোযোগ দিয়ে সকালে যোগব্যায়াম করছিলেন। ফেলুদার নিয়মে বাধা না দিয়ে তোপসে ঘড়ি ধরে মক্কেলকে বসার কথা জানায়।

সময় মেপে সে বলেছিল, ‘বসতে হবে সাড়ে তিন মিনিট।’ এই ছোট্ট দৃশ্যটি ফেলুদা ও তোপসের চটজলদি স্বভাবকে সিনেমায় চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে। ফেলুদার এই গভীর যোগাভ্যাস অফুরন্ত প্রাণশক্তির এক উৎস।

দার্জিলিংয়ের জমজমাট কাহিনীতে সকালে লালমোহন বাবুর আচমকা প্রশ্ন, ‘সকাল সকাল কোথায় গিয়েছিলেন মশাই?’

হেসে জবাব এল, ‘সকালে যোগাসনের পর মনে হল একটু দৌড়ে আসি। তাই ম্যাল থেকে অবজারভেটারি হিলের রাস্তাটাই চার পাক দিয়ে এলাম!’

পাহাড়ে কনকনে ঠান্ডার মাঝে এমন চনমনে উত্তরের চেয়ে রোমাঞ্চকর সকাল আর কী-ই বা হতে পারে! সঙ্গে এথেনিয়াম ইনস্টিটিউশনের বৈকুণ্ঠ মল্লিকের কবিতা।

ফেলুদা বিশ্বাস করেন তাঁর আদর্শ শার্লক হোমসের মতোই, মগজাস্ত্রের পেছনে এক ইস্পাতকঠিন শরীর। নাহলে জটিল রহস্যভেদ অসম্ভব। এই কঠোর শৃঙ্খলাই আর অসাধারণ মানসিক ক্ষুরধারতা পরম শত্রু মগনলাল মেঘরাজ, চট্টোরাজ বা অন্য দুর্ধর্ষ দুশমনদের কাবু করে মুখোশ খুলে দেয়। তাই ফেলুদাকে বাঙালি পাঠক গোয়েন্দা কাহিনীর জগতে করে তুলেছে চিরকালীন।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *