মুকুট তপাদার
১৯০৫ সাল ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাকে দুটি ভাগে ভাগ করলেন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ, দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বহু বিশিষ্ট মানুষ পথে নামলেন। মিছিল করে সকলে এসেছিলেন বাগবাজার স্ট্রিটের বসু বাটিতে। এখানে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে এক বিরাট সমাবেশ হয়েছিল। ঠিক এক বছর পর জানেন কি? ১৯০৬ সালে ভারতে শুরু হয় ‘আইএসটি’ বা ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম’। পুরো দেশের একই সময়বিধি ঠিক হয়েছিল।
ঘড়ির সময় মাপার বিবর্তনে এক নতুন যুগের সূচনা করল। যা সময়ের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। ভারতের সব অঞ্চলের জন্য একই সময়। নতুন এই সময়বিধি ভারতে প্রয়োগ করেন লর্ড কার্জন।
মধ্যপন্থী নেতারা এতে সমর্থন জানিয়েছিল। তবে বিপ্লবীরা বেছে নেন আন্দোলনের পথ। অবশেষে ঠিক হয় আইএসটি চালু হওয়া উচিত। তার আগে অবশ্য ছিল ‘গ্রিনউইচ গড় সময়’।
ইতিহাসের পাতায় ১৯০৬ সাল স্মরণীয় হয়ে আছে এক বর্ণাঢ্য বিশ্ব মেলার আয়োজনের জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সেখানে একত্রিত হয়ে নিজেদের ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও আধুনিকতার পরিচয় তুলে ধরেছিল।
১৯০৬ সালে ইতালির মিলানে সেম্পিওনে পার্কে এক আন্তর্জাতিক মেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনেকের মতে, শোনা যায় যে সেম্পিওনে পার্কে সন্ধ্যার পর কালো পোশাক পরা ও মুখে ঘোমটা দেওয়া এক মহিলার ছায়ামূর্তির আবির্ভাব হয়। যা ভৌতিক এক কাণ্ড।
যাইহোক, মেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল সিম্পলন টানেলের উদ্বোধন। টানেলটি প্যারিস ও মিলানের মধ্যে সরাসরি রেল সংযোগে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ও যাত্রী চলাচল সহজ করে দেয়। ইয়ান ফ্লেমিংয়ের লেখা ‘ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ’ উপন্যাসে টানেলটির কথা উঠে আসে। যেন একই সূত্রে বাঁধল বিশ্বের সংস্কৃতিও।










