অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: বৃত্তাকার বা গোলাকার আকৃতির থেকে কিছুটা লম্বা সেই আইসক্রিম। রোলার ঘুরিয়ে দুধ ও আম-সহ ফলের রস দিয়ে তৈরি সেই আইসক্রিমেই এবারে মজেছে খুদেরা। মঙ্গলবার থেকে প্রথাগত ভাবে জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির ৫ শতাধিক বছরের পুরানো মেলার সূচনা হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই এই আইসক্রিম হাতে পেতে বড়দের কাছে আবদার ধরেছে খুদেরা। বিক্রি আশাতীত হওয়ায় খুশি বিক্রেতাও।

ঐতিহ্যবাহী বৈকুন্ঠপুর রাজএস্টেটের ৫ শতাধিক বছরের পুরনো নন্দোৎসব, দুর্গা পুজোর কাঠাম পুজো ও তিন দিনের মনসা পুজোর মেলা ঘিরে উৎসবমুখর শহর, শহরতলি ও লাগোয়া এলাকার মানুষজন। আসছেন বাইরের পর্যটকেরাও। গবেষকদের একাংশের মতে,রাজা শিষ্য সিংহের আমলে এই পুজোর প্রচলন হয়। এই পাঁচ শতাধিক বছরে ৩২ জন রাজা হয়েছেন। মনসা ও নেতার পাশাপাশি বেহুলা, লখিন্দর, গদা, গদানিরও পুজো হয়। জরুৎকারু মুনিরও প্রতিমা থাকে। শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে করলা নদী। এই নদীর বোয়ালেই ভোগ হয় মায়ের। একেক দিন পালা করে থাকে ইলিশ, চিতল,কাতল-সহ একাধিক মাছের পদও। উত্তরবঙ্গের লোক সংস্কৃতিকে আলাদা রূপ দিয়েছে বৈকুন্ঠপুর রাজএস্টেটের মনসা পুজো। বিলুপ্তপ্রায় বিষহরি পালাও আয়োজিত হয়।

এবারে মেলায় দেখা গেল অন্য স্টলের পাশাপাশি, রোলার মালাই আইসক্রিমের দোকানেও ব্যাপক ভিড়। ছোটদের স্বাদে ভাগ বসাচ্ছেন বড়রাও। জনৈক বিক্রিতা বলেন, ‘রোলারের হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে ঠান্ডা পানীয় জল বা দুধ, ফলের রস মিশিয়ে শক্ত করা হয়। পরে তা কেটে পরিবেশন করা হয়। প্রচুর মানুষ কিনছিন। ছোটরাই বেশি। তাছাড়া গরমও পড়েছে। বিক্রি ভাল হচ্ছে।’ একেকটি আইসক্রিমের দাম পড়ছে ৩০ টাকা।

এক ক্রেতা বলেন, ‘ গরমে প্রচণ্ড ভিড়ে পুরো মেলা ঘুরে এই আইসক্রিমটা খেতে বেশ ভালোই লাগলো। এর আগে এমন স্টল এখানে বসেনি।’ পুজোকে সামনে রেখে বিশ্বশান্তির যজ্ঞও করেন রাজ পুরোহিত শিবু ঘোষাল। মেলা উপলক্ষ্যে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে প্রশাসন ও পুলিশ।









