জলপাইগুড়ি: মঙ্গলবার টেট-বিরোধী শিক্ষক গণতান্ত্রিক ঐক্যমঞ্চের তরফে ফের আন্দোলন। সাময়িক স্তব্ধ হল শহর। এদিন দুপুরে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সামনে জমায়েত করেন সংগঠনের প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পরে, মিছিল করে জেলাশাসকের কার্যালয়ে যান সংগঠনের সবাই। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও রাজ্য সরকারকে স্মারকলিপিও ও দেওয়া হয়।

তামিলনাড়ু, জম্মু-কাশ্মীরের ধাঁচে বিল এনে এ রাজ্যে শিক্ষকদের টেট পরীক্ষা বন্ধের দাবি। এর পাশাপাশি, আরটিই আইনের কিছু ধারা সংশোধন করে দেশব্যাপী টেটহীন শিক্ষকদের এই টেট পরীক্ষা নেওয়া থেকে কেন্দ্রকে বিরত থাকার অনুরোধ। এদিন জেলাশাসকের দফতরে দেওয়া ডেপুটেশনের মূল বিষয়বস্তু এটাই। এর পাশাপাশি চাকরির নিশ্চয়তা প্রদানেরও দাবি জানান হয়।

সংগঠনের নেতৃত্বদের তরফে যুগ্ম কনভেনার জয়দীপ রায় জানান, জেলা ও রাজ্যজুড়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে শিক্ষক শিক্ষিকারা নিযুক্ত হয়ে বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। নিষ্ঠা, দীক্ষার মতো অ্যাপে নিজেদের বর্তমান সময়ের উপযোগী করে তুলছেন। কিন্তু তাদের নিয়োগের সময় ‘টেট’ বলে কোনও পরীক্ষা ছিল না। এখন নতুন করে কোনও শিক্ষককে আবার যোগ্যতা নির্ধারণে বসতে বলা নিতান্তই অযৌক্তিক। সংগঠনের দাবি, এর ফলে বহু শিক্ষক কর্মচ্যুত হতে পারেন। শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙেও পড়তে পারে। নতুন রাজ্য সরকারের কাছে চাকরির নিরাপত্তা, সম্মান এবং পেশাগত সম্মানকেও অক্ষুণ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহস্রাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা এই কর্মসূচিতে হাজির হন বলে দাবি। পরে, সংগঠনের তরফে এক প্রতিনিধি দল গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। এদিন কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি আটকাতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড দেওয়া হয় ডিএম অফিসের মূল ফটকে।









