সাধারণ মানুষের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। অনেকেরই অবস্থা এখন কার্যত ‘দিন আনা দিন খাওয়া’র মতো। ফলে ইচ্ছা থাকলেও প্রয়োজনের বাইরে কেনাকাটা করার সামর্থ্য থাকছে না।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে। একসময় যে বাজারগুলিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় দেখা যেত, বর্তমানে বহু বাজারেই সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গিয়েছে। দোকানদাররা বলছেন, ক্রেতা আসছেন ঠিকই, কিন্তু কেনাকাটার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, আগে যে পরিবারগুলি একসঙ্গে মাসের বাজার করত, এখন তারা অনেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে সামগ্রী কিনছেন। অনেক ক্ষেত্রে পছন্দের পণ্য বাদ দিয়ে শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় জিনিসেই সীমাবদ্ধ থাকছে কেনাকাটা।
ফলে ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন খুচরো বিক্রেতা, সবাই কম-বেশি সমস্যার মুখে পড়েছেন। ক্রেতা কম, বিক্রি কম, অথচ দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ, কর্মচারীর খরচসহ অন্যান্য ব্যয় একই রয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন বাজারে এই মন্দা চলতে থাকলে ছোট ব্যবসাগুলির উপর চাপ আরও বাড়বে।
অর্থনীতির সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী মানুষের হাতে খরচ করার মতো অর্থ কমে গেলে বাজারে চাহিদাও কমে যায়। বর্তমানে বহু বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি এবং কেনাকাটার পরিমাণ কমে যাওয়ার ছবি সেই বাস্তবতাকেই সামনে আনছে।
সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, আয় না বাড়লে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চাপ না কমলে বাজারে ফের স্বাভাবিক কেনাকাটার পরিবেশ ফিরবে কীভাবে? বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রশ্নই আরও জোরালো করে তুলেছে।









