আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তল্লাশির সময় প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে যে সমস্ত নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেগুলি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্ত চলাকালীন এই সমস্ত সামগ্রী যাতে কোনওভাবেই বিকৃত না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে যেমন কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কাম্য নয়, তেমনই কোনও কেন্দ্রীয় এজেন্সি যদি স্থানীয় থানার অনুমোদনপত্র নিয়ে বৈধভাবে তদন্ত চালায়, তাহলে তা আইনসিদ্ধ বলেই গণ্য হবে।
আদালত সব পক্ষকে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাবি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং নোটিস জারি করেছে। এই সময়ের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি যেখানে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও স্টোরেজ ডিভাইসও সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শেক্সপিয়ার সরণী থানা-সহ বিভিন্ন থানায় ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, সেগুলির উপর সম্পূর্ণ স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। ফলে তদন্তকারী ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে আপাতত কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না।
এদিন আদালতে রাজ্য পুলিশের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ভি সওয়াল করেন, যাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও যেন কোনও কঠোর পদক্ষেপ না করা হয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তবে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র স্পষ্ট জানান, মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইডি বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার হাতে যদি বৈধ ‘অথরাইজেশন লেটার’ থাকে, তাহলে তারা তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। অর্থাৎ প্রতীক জৈন বা অন্যান্য অভিযুক্তদের জন্য কোনও সুরক্ষা দেওয়া হয়নি।
অর্ডার দেওয়ার আগে বিচারপতি মন্তব্য করেন, এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং তা কার্যত একটি প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে। কলকাতায় ইডি ও সিবিআই অফিসারদের বিরুদ্ধে হওয়া ধরনা ও বিক্ষোভের কথাও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
শেষ বেলায় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা জানান, রাজীব কুমার-সহ একাধিক পুলিশ আধিকারিকের সাসপেনশন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি নতুন পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। সেই বিষয়টিও নোটিসের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানায় আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৩ ফেব্রুয়ারি।










