Home / খবর / জেলায় জেলায় / মাইথনে কোনোভাবেই গড়তে দেওয়া হবে না সোলার প্ল্যান্ট, দাবি গ্রামবাসীদের

মাইথনে কোনোভাবেই গড়তে দেওয়া হবে না সোলার প্ল্যান্ট, দাবি গ্রামবাসীদের

মাইথন (আসানসোল): মাইথন জলাধারে প্রস্তাবিত ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে (Floating Solar Energy Project) কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে প্রতিবাদের আঁচ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবার ও গ্রামবাসীদের এই বিক্ষোভ এখন এক বিশাল গণ-আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। গত মঙ্গলবার সিধাবাড়িতে প্রকল্পের সাথে যুক্ত ট্রাক গুলিকে আটকে ফেরত পাঠানোর পর, এবার মাইথন ড্যাম সংলগ্ন সাতটি গ্রামের শয়ে শয়ে মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষায় রাস্তায় নেমে এসেছেন।
‘দামোদর ভ্যালি বাস্তুহারা সংগ্রাম সমিতি’-র ব্যানারে মঙ্গলবার কালীপাথর ফুটবল ময়দানে একটি বিশাল সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় বিপুল সংখ্যায় উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত হন। সভা থেকে একটাই দাবি তোলা হয়, যেকোনও পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও মাইথন জলাধারে এই সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন করতে দেওয়া হবে না।
বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দিয়ে সংগঠনের চেয়ারম্যান বাসুদেব মাহাতো ডিভিসি (DVC) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই, কিন্তু উন্নয়নের নামে নিজেদের বিনাশ কোনওভাবেই সহ্য করব না। ১৯৫২ সাল থেকে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ বাস্তুহারাদের সাথে কেবল ছলকপট করে এসেছে। বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা কখনোই পূরণ করা হয়নি। এত বড় একটি প্রকল্প শুরু করার আগে কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল স্থানীয় বাস্তুহারা ও গ্রামবাসীদের সাথে আলোচনায় বসা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এই সোলার প্ল্যান্টের মাধ্যমে এলাকার দরিদ্র মৎস্যজীবী এবং নৌকা চালকদের রুজি-রুটি কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে। এটি কেবল কোনও ব্যক্তি বিশেষের লড়াই নয়, বরং গোটা এলাকার অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষার লড়াই।
কালীপাথর গ্রামের বাসিন্দা মুমতাজ আনসারি জানান, বাথানবাড়ি, কালীপাথর, সিধাবাড়ি, ডোমদোহা এবং বৃন্দাবনী সহ সংলগ্ন সাতটি গ্রামের শত শত পরিবারের জীবিকা পুরোপুরি এই মাইথন ড্যামের ওপর নির্ভরশীল। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জলাধারে সোলার প্যানেল বসে গেলে নৌকা চালানোর জায়গা থাকবে না, মাছ ধরাও অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাছাড়া এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, যার ওপর ভিত্তি করে বহু মানুষের পেট চলে। সোলার প্ল্যান্ট হলে পর্যটন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করব।
একই সুর শোনা গেল গ্রামবাসী কাজল মণ্ডলের গলাতেও। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, ড্যাম তৈরির সময়েই তাঁদের পূর্ব পুরুষদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। বিনিময়ে জুটেছে কেবল মিথ্যে আশ্বাস আর বঞ্চনা। এখন বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গ্রামবাসীরা কোনওভাবেই মেনে নেবেন না।
এখন দেখার, গ্রামবাসীদের এই তীব্র ও সংগঠিত বিরোধিতার পর ডিভিসি কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন এই জট কাটাতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *