দুর্গাপুর: দলীয় আদর্শ, নীতি ও সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত হল ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান’। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ শিবিরে চারটি সাংগঠনিক জেলার প্রায় ৩২০ জন নির্বাচিত কার্যকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অভিজিৎ তা, বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র-সহ চার জেলার একাধিক নেতা, পদাধিকারী ও সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল দলের আদর্শ, ইতিহাস, সাংগঠনিক রীতি, জনসংযোগের কৌশল এবং কর্মীদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একদিকে যেমন কর্মীদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে, তেমনি আগামী দিনে বুথ ও মণ্ডল স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, “এটি বিজেপির কার্যকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির। এখানে দলের নীতি, আদর্শ, ইতিহাস, সাংগঠনিক কাঠামো এবং একজন কার্যকর্তার করণীয় ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যারা এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, তাঁরা পরবর্তীকালে বুথ স্তরের কর্মীদের একই ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। ফলে সংগঠনের ভাবনা ও কর্মপদ্ধতি আরও কার্যকরভাবে নিচুতলা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।”
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন কারণে গত কয়েক বছর ধরে এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিবির নিয়মিত আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে সংগঠনকে আরও গতিশীল ও সুসংহত করার লক্ষ্যে পুনরায় এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়ও এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের দর্শন, একাত্ম মানববাদ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের কর্মীদের মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সংগঠনের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শিবির জুড়ে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন, আলোচনা এবং মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনের ভিত আরও মজবুত হবে এবং আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য কর্মীরা আরও দক্ষ ও প্রস্তুত হয়ে উঠবেন।










