Home / খবর / জেলায় জেলায় / দামোদর থেকে অবাধে বালি পাচারের অভিযোগ, কাঁকসায় ৩০টি ট্রাক্টর আটক এলাকাবাসীর

দামোদর থেকে অবাধে বালি পাচারের অভিযোগ, কাঁকসায় ৩০টি ট্রাক্টর আটক এলাকাবাসীর

কাঁকসা: দামোদর নদ থেকে অবাধে বালি পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার শোকনা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখিয়ে প্রায় ৩০টি বালি বোঝাই ট্রাক্টর আটক করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকরা। শুরু হয় ট্রাক্টরগুলির চালান ও অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজ।স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঁকসার সিলামপুর সংলগ্ন দামোদর নদ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মবহির্ভূতভাবে বালি উত্তোলন ও পরিবহণ চলছে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত একের পর এক বালি বোঝাই ট্রাক্টর গ্রামাঞ্চলের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। এর ফলে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে, তেমনই গ্রামের রাস্তারও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাক্টরের বিকট শব্দে রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের।বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কার্যকরী কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই এদিন রাস্তায় নেমে ট্রাক্টরগুলি আটক করেন তাঁরা।স্থানীয় বাসিন্দা ও বিক্ষোভকারী রাজু আঁকুড়ে বলেন, রাতের অন্ধকারে প্রতিদিন বালি বোঝাই ট্রাক্টর চলাচল করছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং শব্দদূষণে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এদিন ট্রাক্টরগুলি আটক করার পর চালকেরা পুরনো চালান দেখানোর চেষ্টা করেন। এতে আমাদের সন্দেহ আরও বেড়েছে। আমরা মনে করি, অনেক গাড়িই অবৈধভাবে বালি পরিবহণ করছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। যারা বৈধভাবে ব্যবসা করবেন, তারা দিনের আলোয় সমস্ত নিয়ম মেনে কাজ করুন, তাতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।ঘটনা প্রসঙ্গে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস. পোন্নাবলম জানান, পুরো বিষয়টির তদন্ত করা হচ্ছে। সমস্ত চালান ও প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করে দেখা হবে। কোনও গাড়ির বৈধ নথি না থাকলে বা বেআইনি কার্যকলাপের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই নির্দেশ পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক ট্রাক্টরগুলিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অবৈধ বালি উত্তোলন ও পরিবহণ রুখতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *