অভিযেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুললো জোড়াফুল শিবির। বিজেপির সভামঞ্চের অমতিদূরে টেবিল-চেয়ার পেতে যুবপ্রতি মাসিক ৩ হাজার টাকার হবু প্রকল্প ‘যুবশক্তি’-সহ একাধিক প্রকল্পের নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন রাজ্যের শাসক দলের শ্রমিক সংগঠনের সদর ব্লক-১ সভাপতি শুভঙ্কর মিশ্র। নির্বাচনের প্রাক-মুহুর্তে এভাবে আমজনতাকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করা বেআইনি বলে অভিযোগ ওই শ্রমিক নেতার। নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা-অতি সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভঙ্কর। যদিও, বিষয়টিকে একদমই গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। নিয়ম উলঙ্ঘন হয়নি বলেই দাবি দলের রাজ্য কমিটির সদস্য শ্যাম প্রসাদের।

শুভঙ্কর মিশ্র, শ্রমিক নেতা, তৃণমূল কংগ্রেস

শ্যাম প্রসাদ, রাজ্য কমিটির সদস্য, বিজেপি
ঘটনার সূত্রপাত, গত রবিবার। অসমের মুখ্যমন্ত্রী সেদিন দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করেন মণ্ডলঘাট অঞ্চলের নারায়নপুরে। ওই সভাস্থলের অদূরে টেবিল-চেয়ার পেতে উপস্থিত জনতার একাংশের নাম নথিভুক্ত করে যুব ও মহিলাদের ফর্ম ফিলআপ করানো হয় বলে অভিযোগ শুভঙ্করের। সোমবার দলের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যুব ও মহিলাদের ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। এই আশ্বাসে কোন দোষ নেই। কিন্তু ভোটবিধি লাগু হয়ে যাওয়ার পরে এভাবে কোনও প্রকল্পে কারও নাম নথিভুক্ত করা যায় না। এটা নিয়ম বিরুদ্ধ। দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ করব। তবে নির্বাচন কমিশনও বিষয়টি দেখুক।” তার আরও সংযোজন, তৃণমূলের পতাকা লাগানো গাড়িকে দশবার তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে। এদিকে এনজেপি জলপাইগুড়ি পর্যন্ত প্রচুর বহিরাগতকে দেখা যাচ্ছে। ভিন রাজ্যের গাড়ি ঢুকছে। ভোটের মুখে অশান্তি পাকানোর ছক কষা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি দেখুক।”
অপরদিকে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য শ্যাম প্রসাদ বলেন, “সাধারণ মানুষ বিজেপি নেতাদের বাড়ি গিয়ে প্রকল্পের খোঁজ নিচ্ছেন। আমাদের সংকল্প পত্রে যুবশক্তি-সহ যুব ও নারীদের উন্নয়নের জন্য নানা কথা বলা রয়েছে। সভাশেষে প্রচুর মানুষ নিজেদের নাম দিয়েছেন স্বেচ্ছায়। এখানে আর্থিক কোনও বিষয় নেই।” এবারে তৃণমূলের পায়ের তলার মাটিনসরে গিয়েছে দেখে এসব উল্টোপাল্টা বিষয়ে অভিযোগ করছে বলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জানান শ্যাম প্রসাদ।









