মুকুট তপাদার
‘উৎসবের বৈশাখীতে কত যে আনন্দ’। পহেলা বৈশাখ বকেয়া আদায়ের দিন। পুরোনো বছরের হিসাব বন্ধ করে নতুন লাল খাতায় আবার হিসাব শুরু করার রীতি। সেইসঙ্গে পুরোনো খদ্দেরদের নতুন বছরে ক্যালেন্ডার, মিষ্টি ও শরবত পরিবেশন করা হয়। হালনাগাদ উৎসব থেকে হালখাতা।
হালখাতা এলো কোথা থেকে? নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছে? নাকি আচম্বিতে অন্তরীক্ষ থেকে টুপ করে খসে পড়েছে? আসলে হিজরি সনের সাথে ফসলের ছন্দ মেলাতে শুরু হয় ফসলি বর্ষপঞ্জি। যা মোগল সম্রাট আকবরের দূরদর্শী প্রজ্ঞায়।
আজকের হালখাতা যাকে বাঙালিরা আবার খেরো খাতা বলেন। কাপড় দিয়ে বাঁধানো এই খাতা ব্যবহার করতেন সত্যজিৎ রায়। সৃষ্টিশীল কাজের সব খুঁটিনাটি এখানেই তাঁর লেখা থাকতো।
কম্পিউটারাইজড বিলিং বা অনলাইন লেনদেনের ভিড়েও হালখাতা বাঙালির আবেগ।
গ্রাম বাংলার ছোট বড় দোকানগুলোতে আজও ভরসা বৈশাখের খাতাগুলো। আর লাল সালুতে মোড়ানো থাকে কারণ, লাল রঙ শুভ।
চাহিদা কমলেও কলেজস্ট্রিট ও বড়বাজারের দোকানগুলোতে ব্যবসায়ীরা নববর্ষের সময় বিভিন্ন মাপের হালখাতা বিক্রি করেন। তারা মনে করেন, নববর্ষের বিশেষ দিনটি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় করে।










