আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা-কে প্রার্থী করে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিল বিজেপি। বুধবার প্রকাশিত তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকায় পানিহাটি কেন্দ্র থেকে তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের আরও ১৯টি বিধানসভা আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। এখনও ১৯টি কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা বাকি রয়েছে।
এই তালিকায় উত্তরবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র জায়গা পেয়েছে। কোচবিহার দক্ষিণে রথীন্দ্রনাথ বসু, রায়গঞ্জে দীনেশ সরকার, ইসলামপুরে চিরঞ্জিৎ রায়, হেমতাবাদে হরিপদ বর্মণ এবং ইংরেজ বাজারে অম্লান ভাদুড়িকে প্রার্থী করা হয়েছে। পাশাপাশি নদিয়ার শান্তিপুরে স্বপন দাস, হাওড়া মধ্যে বিপ্লব মণ্ডল, উত্তরপাড়ায় দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, সিঙ্গুরে অরূপকুমার দাস, চন্দননগরে দীপাঞ্জনকুমার গুহ, চুঁচুড়ায় সুবীর নাগ, হরিপালে মধুমিতা ঘোষ, তমলুকে হরেকৃষ্ণ বেরা, মেদিনীপুরে শঙ্কর গুছাইত এবং পূর্বস্থলী দক্ষিণে প্রাণকৃষ্ণ তপাদার টিকিট পেয়েছেন।
এছাড়া কাটোয়ায় কৃষ্ণ ঘোষ, সাঁইথিয়ায় কৃষ্ণকান্ত সাহা এবং নলহাটিতে অনিল সিংহকে প্রার্থী করা হয়েছে।
পানিহাটি কেন্দ্রের প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে আগেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল। নির্যাতিতার মা নিজেই জানিয়েছিলেন, নারী সুরক্ষার প্রশ্নে লড়াই চালিয়ে যেতে তিনি ভোটে দাঁড়াতে চান। সম্প্রতি তিনি ও তাঁর স্বামী আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষত শুভেন্দু অধিকারী-রা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিল্লি থেকেই নেওয়া হবে। অবশেষে তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে সেই জল্পনার অবসান হল।
পানিহাটিতে তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত। অন্যদিকে উত্তরপাড়ায় তৃণমূল প্রার্থী করেছে শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে, সিপিএমের প্রার্থী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, আর বিজেপির তরফে লড়বেন দীপাঞ্জন চক্রবর্তী।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ফল ঘোষণা ৪ মে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, সিপিএম দু’দফায় তালিকা প্রকাশ করেছে। বিজেপির তিন দফার তালিকার পরেও কিছু আসন বাকি রয়েছে, আর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এখনও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি।
এদিকে নির্বাচনী লড়াই জমে উঠেছে ভবানীপুর কেন্দ্রেও। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও তাঁকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।
উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ-এ রাতের ডিউটিতে থাকা এক চিকিৎসক-পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সেই মামলায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে তদন্ত নিয়ে একাধিকবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার মা। তাঁর দাবি, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতেই তিনি এবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন।










