Home / প্রবন্ধ / রোববারের লেখা / রাঢ়বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী বর্ধমান রাজপরিবারের রথ ও কাঞ্চননগরের ইতিহাস

রাঢ়বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী বর্ধমান রাজপরিবারের রথ ও কাঞ্চননগরের ইতিহাস

মুকুট তপাদার

পর্ব ২

মহারাজা কীর্তিচাঁদ বর্ধমানের কাঞ্চননগরকে নিজের মতো করে সাজিয়ে তুলেছিলেন। অতীতে দুইটি কাঠের রথ এই নগরের রাজপথ দিয়ে যেতো। সব থেকে আশ্চর্যের হল, একটি ছিল ‘রাজার রথ’ এবং অন্যটি ‘রাণীর রথ’।

দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ রাজা ও রাণীর রথের রশি টানতে আসতেন। সেই দুই রথ আজ আর নেই। তবে আজও এখানে রথের মেলা বসে। বর্তমানে প্রতি বছর রথের দিন একটি পিতলের রথ টানা হয়। পিতলের রথটি সম্প্রতি নির্মাণ হয়েছে।

১৮৫১ সালে মহারাজা মেহতাব চাঁদ নির্মাণ করেন ‘মেহতাব মঞ্জিল’। এর কাছেই সোনাপট্টি এলাকায় বর্ধমান রাজপরিবারের লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরেও জোড়া রথ টানা হয়। এই কারণের পিছনেও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। এখানে রথে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার বিগ্রহ থাকে না। একটি রথে গোপাল ও অন্য রথটিতে লক্ষ্মীনারায়ণ জিউকে বসানো হয়। মহারাজা মেহতাব চাঁদ এই রথযাত্রার সূচনা করেন।

যদিও কালের নিয়মে রাজবাড়ির নাটমন্ডপ কিংবা প্রাচীন রথযাত্রার জৌলুস কিছুটা মলিন হয়েছে। তবু এই উৎসব অতীত ও বর্তমানকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে। আজো রাজবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় বহু লোকসমাগম হয়। এই রথযাত্রার সঙ্গে বহু আবেগ জড়িয়ে আছে। আর রাজবাড়ির মন্দিরের পুরনো রূপ ফিরে পাওয়ার আশায় মানুষ বুক বাঁধছেন।

তথ্যসূত্র: বর্দ্ধমান রাজবংশানুচরিত/ নীরদবরণ সরকার

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *