রানিগঞ্জ: ঐতিহ্য ও ভক্তির মেলবন্ধনে এবারও অনুষ্ঠিত হল রানীগঞ্জের সিয়ারশোল রাজ পরিবারের ১০৩ বছরের প্রাচীন পিতলের রথযাত্রা। এই ঐতিহাসিক রথের দড়ি টানলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ও দুই বিধায়ক। রথযাত্রাকে ঘিরে নতুন রাজবাড়ি থেকে পুরনো রাজবাড়ি পর্যন্ত ভক্তদের ঢল নামে। হাজার হাজার মানুষ রথ টানার পাশাপাশি পুজো ও প্রার্থনায় অংশ নেন।
এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, মন্ত্রী ড. অজয় কুমার পোদ্দার, রানীগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ এবং জামুড়িয়ার বিধায়ক ড. বিজন মুখার্জি। তাঁরা ভক্তিভরে রথের দড়ি টেনে প্রার্থনা করেন এবং সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
জানা যায়, সিয়ারশোল রাজ পরিবারের এই পিতলের রথের ইতিহাস বহু পুরনো। ১৯২৫ সালের আগে পর্যন্ত পুরীর জগন্নাথ রথের আদলে কাঠের রথ টানা হত। পরবর্তীতে সেই রথ আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর রাজ পরিবারের সদস্য প্রমথনাথ মালিয়া কলকাতার চিৎপুরের শিল্পী প্রসাদ চন্দ্র দাসকে দিয়ে তৈরি করান এই অপূর্ব পিতলের রথ।
রথের গায়ে রামায়ণ, মহাভারত, কৃষ্ণলীলা ও বিভিন্ন দেব-দেবীর কাহিনি মূর্তির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই রথে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পাশাপাশি রাজ পরিবারের কুলদেবতা দামোদর চন্দ্র জিউ অধিষ্ঠিত হন।
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে বসেছে বিশাল মেলা। প্রাচীন কৃষিকাজের সরঞ্জাম থেকে শুরু করে আধুনিক সামগ্রী, প্রসাধনী, গাছের চারা, আচার, খাবারের দোকান ও নাগরদোলা, সব মিলিয়ে জমজমাট উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ১৫ দিন ধরে চলবে এই মেলা।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও ড. অজয় কুমার পোদ্দার বলেন, এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা বাংলার সংস্কৃতি ও সনাতন ঐতিহ্যের গর্ব। তাঁরা এই প্রাচীন পিতলের রথের ঐতিহ্য দেখে গর্ব প্রকাশ করেন।










