দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার নাম বদলের দাবি ঘিরে ফের তীব্র জল্পনা ও রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে শিল্পাঞ্চল জুড়ে। জেলার নাম থেকে ‘বর্ধমান’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘আসানসোল–দুর্গাপুর’ নাম রাখার দাবিতে সরব হয়েছেন বিভিন্ন মহল। প্রশাসনিক মহল থেকে রাজনৈতিক অন্দর, সর্বত্রই এখন এই ইস্যু নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল অবিভক্ত বর্ধমান জেলা ভেঙে তৈরি হয় পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান। পশ্চিম বর্ধমানের অন্তর্ভুক্ত হয় মূলত শিল্পাঞ্চল আসানসোল ও দুর্গাপুর মহকুমা। কিন্তু জেলার নামকরণ নিয়েই তখন থেকেই একাংশের আপত্তি ছিল।
অভিযোগ, জেলার বাস্তব পরিচয় যেখানে শিল্পনগরী আসানসোল–দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে, সেখানে ‘বর্ধমান’ নাম বহাল রাখার যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে দুর্গাপুরে এক প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উঠে আসতেই নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বলে ওঠে। একাধিক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, পশ্চিম বর্ধমানের পরিবর্তে জেলার নাম ‘আসানসোল–দুর্গাপুর জেলা’ করা হোক, দাবি উঠেছে। এতে জেলার শিল্প, অর্থনীতি ও ভৌগোলিক পরিচয় আরও স্পষ্ট হবে এবং জাতীয় স্তরে ব্র্যান্ডিংও শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, জেলার নাম বদল এখন মানুষের প্রধান সমস্যা নয়। বেকারত্ব, শিল্পে মন্দা, দূষণ, রাস্তা, পানীয় জল ও নাগরিক পরিষেবার মতো জরুরি সমস্যার সমাধানই হওয়া উচিত নতুন সরকারের অগ্রাধিকার। তাদের প্রশ্ন, “নামের পরিবর্তনে সাধারণ মানুষের কী বাস্তব লাভ হবে?”
তবে জেলার নাম বদলের দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল, সব জায়গাতেই আলোচনা তুঙ্গে। কেউ বলছেন, ‘আসানসোল–দুর্গাপুর’ নাম জেলার প্রকৃত পরিচয় বহন করবে, আবার কারও মতে ‘বর্ধমান’ নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য ও ইতিহাস, তা মুছে ফেলা উচিত নয়।
এখন দেখার, এই দাবি শুধুই রাজনৈতিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি প্রশাসনিক স্তরে বাস্তব পদক্ষেপের পথে এগোয়। শিল্পাঞ্চলের মানুষও নজর রাখছেন, জেলার নাম কি সত্যিই বদলাবে, নাকি আবারও বিতর্কেই আটকে থাকবে এই প্রস্তাব?










