দুর্গাপুর: বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক দখলদারির চাপা উত্তেজনা চলছিল। আর সেই সংঘাতই রবিবার সকালে বিস্ফোরণের রূপ নিল দুর্গাপুরের সেন মার্কেটে। বিজেপির দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা বাজার এলাকা। দুষ্কৃতী তাণ্ডব, দোকান ভাঙচুর, ব্যবসায়ীদের উপর হামলা এবং পুলিশি হস্তক্ষেপ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাজুড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই দুর্গাপুর বাজার এলাকার বিজেপির ‘মন্ডল ‘-এর নেতা অভিজিৎ দত্ত সেন মার্কেটে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সমিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মন্তব্য করেন। অভিযোগ, তিনি এক অস্থায়ী ব্যবসায়ী ‘রবি ‘ নামে এক ব্যক্তিকে বাজার কমিটির দখল নেওয়ার কথা বলেন, যার জেরে বাজারে অশান্তির সূচনা হয়। রাজনৈতিক মহলে অভিজিৎ দত্তকে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।
অভিযোগ উঠেছে, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই সেন মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয়। সেইমতো দুর্গাপুর পশ্চিম এর বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুইয়ের গোষ্ঠী বাজার কমিটির উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায় বলে দাবি ব্যবসায়ীদের একাংশের। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে বিজেপির তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এরপর রবিবার সকালে পরিস্থিতি আচমকাই বিস্ফোরক হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী বাজারে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। একাধিক দোকানে ভাঙচুর করা হয়, রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় সবজি ও পণ্যসামগ্রী। হামলায় আক্রান্ত হন সেন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাগর সাহা, যিনি নিজেও বিজেপি সমর্থক বলে পরিচিত। ফলে ঘটনাকে ঘিরে ‘দল বনাম দল’ সংঘাতের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
ব্যবসায়ী সমিতির দাবি, সেন মার্কেট একটি অরাজনৈতিক ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সেই সংগঠনের অফিস দখলের চেষ্টা চলছিল বলেই অভিযোগ। এর প্রতিবাদ করতে গিয়েই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বলে তাঁদের দাবি।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছয় কোকওভেন থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্যের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা।
ইতিমধ্যেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফুটেজে বাজারের ভিতরে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ, আতঙ্ক এবং তাণ্ডবের দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বর্তমানে সেন মার্কেট এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। তবে প্রশ্ন উঠছে— শিল্পনগরীর বাজার কমিটি কি এবার রাজনৈতিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নতুন যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠছে? সেন মার্কেটের ঘটনায় সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দুর্গাপুর জুড়ে।









